দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষক

কুড়িগ্রামে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে গত বছর ভয়াবহ বন্যার পর এবার মাঠজুড়ে সোনালি ধান দেখে ভরে গেছে কৃষকের চোখমুখ। লম্বা লম্বা ধানের শীষে ভরা মাঠ যেন সোনালি কার্পেটে ছড়িয়ে আছে। কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মাঠজুড়ে। শ্রমিকরা লম্বা আল ধরে হেলে দুলে ধান বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কৃষকের উঠানে। সেখানে ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী-পুরুষরা। কৃষি উপকরণসহ সার, বীজ, কীটনাশক হাতের কাছে পাওয়ায় আবাদে বাম্পার ফলন হলেও শঙ্কিত কৃষক ভালো দাম না পাওয়ায়। বর্তমান বাজারে কাঁচা ধানের মণ ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা। যা খরচ ওঠাতে পারছে না। কাচা ধানের মূল্য দিয়েই শোধ করতে হচ্ছে শ্রম মূল্য। ফলে কম দাম পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। তাদের দাবি ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া এবং প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে চলতি বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১১ হাজার ৮৪২ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৭ হেক্টর। ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯১৫ টন। এখন পর্যন্ত ৪৫ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। তাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন বেশি আশা করছে কৃষি বিভাগের লোকজন। এবার হাইব্রিড ধান নির্ধারণ করা হয় ৪ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন, উফশি ব্রিধান-২৮ ৩ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন এবং স্থানীয়তে এক দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৯টি উপজেলায় আবাদ হয়েছে হাইব্রিড, উফশি ব্রিধান-২৮ এবং স্থানীয় ধান। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর, উলিপুরে ২১ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, চিলমারীতে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর, রৌমারীতে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর, রাজিবপুরে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর, ভূরুঙ্গামারীতে ১৬ হাজার ২৭৫ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ২১ হাজার ৮১২ হেক্টর, ফুলবাড়িতে ১১ হাজার ৬৫০ হেক্টর এবং রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। ধান ক্ষেত দেখে যে কারোই চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। প্রচণ্ড তাপদাহে চলছে ধান কাটা-মাড়াই। কিষাণ ধান ক্ষেতের আইল ধরে সারিবদ্ধ হয়ে কাধে লম্বা বাঁশ ফেলে দু’ধারে ধানের আঁটি নিয়ে হন হন করে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছে উঠানের দিকে। সেখানে ধান মাড়াই ঝাড়াই করা হচ্ছে। পুরুষদের সঙ্গে নারীও ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় গ্রামের কৃষক মোস্তা, বদিয়ত ও জমসেদ জানান, আবাদ ভালো হলেও বোরো মৌসুমে ফলন হয়েছে একর প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ মণ ধান। বর্তমানে ৬০০-৬৫০ টাকার বাজার দরে খরচ বাদ দিলেও লাভ বেশি একটা থাকছে না। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাম্পার ফলন হওয়ায় দিনমজুররা ধান ক্ষেতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে। পুরুষরা প্রতিজন দিনে ৪-৫শ’ টাকা আয় করছে। মহিলা শ্রমিকরাও পাচ্ছেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। ফলে শ্রমিকদের সংসারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বেড়ে যাচ্ছে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.