বাঘায় রমরমা সুদের ব্যবসা

নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঘায় চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা সুদ দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। পরে না দিতে পারলে মাঠের জমি, গরু এমনকি বসতভিটা পর্যন্ত লিখে দিতে হয় সুদ ব্যবসায়ীদের নামে। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এরই মধ্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। সুদের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে চলছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে। সুদের টাকা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এনামুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, সুদ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদি কেউ বিপদে পড়ে ৫০ হাজার টাকা সুদে নেন, তাহলে পাঁচ মাস পর পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও সুদ ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ হয় না। সুদ ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের জমি পর্যন্ত জোরপূর্বক লিখে নিচ্ছে। এরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। গফুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি জানান, বছরপাঁচেক আগে এক ব্যক্তির কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা সুদে নেন। এরই মধ্যে ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুদের টাকা এখনও শোধ না হওয়ার কারণে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এসব সুদ ব্যবসায়ীর কারণে মনের কষ্টে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন। এক স্কুলশিক্ষক সুদের টাকা শোধ করতে না পেরে সুদখোরকে তার ব্যাংকের চেকবইয়ের পাতা স্বাক্ষর করে দিতে বাধ্য হন। তার জমি বিক্রি করেও সুদের টাকা পরিশোধ হয়নি। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। ঝুন্টু নামের আরেক ব্যক্তি সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। শফিকুল নামের এক ব্যক্তি তিন লাখ টাকা সুদ নেন। সেই টাকা বেড়ে সুধ-আসলে প্রায় আট লাখ টাকা হয়েছে। অবশেষে তিনি টাকা দিতে না পেরে ছেলেমেয়ে রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুদের টাকা নিয়ে এভাবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

এখন তারা সমাজের প্রধান নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এই সুদ সিন্ডিকেটের ওপর নজর দিতে এলাকাবাসী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে দাবি জানিয়েছেন। বাঘা থানা ওসি রেজাউল হাসান রেজা জানান, সুদ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়ার কথাটি শুনেছি। এছাড়া সুদ ব্যবসার টাকার জন্য কারও জমি, কারও বাড়ি, এমনকি কাউকে মারধর করা হয়েছে- এমন ঘটনা যদি কেউ থানায় অভিযোগ করে তাহলে সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.