গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও স্বাস্থ্য সহকারীরা দুই মাস আগে সিভিল সার্জন বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করলেও তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর স্বাক্ষর করা অভিযোগপত্রে জানা গেছে, ওই প্রধান সহকারী নানা অজুহাতে যেমন- প্রত্যয়নপত্র, শান্তি-বিনোদন ভাতা, ছুটির দরখাস্ত, বর্ধিত বেতন, ভিটামিন এ-ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কাজে তার কাছে গেলে তিনি নানাভাবে অর্থ দাবি করেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে ঘুষও দাবি করেন। তিনি কর্মচারীদের বলেন, টাকা না দিলে কোনো কাজ হবে না। রেজাউল করিমের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া তার অপকর্মগুলো জেলা সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসকে অবহিত করা হলে তিনি মৌখিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করে পার পেয়ে যান। তার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করেছেন বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগেও তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করেন। এছাড়াও ইতিপূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে সিভিল সার্জনকে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করলে তিনি ওই প্রধান সহকারীকে রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে রেজাউল করিমের আচরণে অতিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত তার প্রত্যাহার দাবি করেছেন। প্রধান সহকারী রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ফেরদৌস মোহাম্মদ খাইরুল আতাতুর্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর্মচারীদের করা অভিযোগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিষয়টি রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে জানান।