সমস্যায় জর্জরিত বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  মো. মাসুদুর রহমান বারহাট্টা ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে উপজেলাবাসী তাদের কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব সমস্যা নিরসন করে যেন ৫০ শষ্যার একটি অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ছয়জন চিকিৎসক। এর মধ্যে ডা. তারেক মাহমুদ ও ডা. আল রেজুয়ান রাসেল এই দু’জন চিকিৎসক রয়েছেন সংযুক্তি (ডেপুটেশন) হিসেবে। ডা. তারেক মাহমুদ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ডা. আল রেজুয়ান রাসেল কর্মরত রয়েছেন রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু ওই দুই চিকিৎসক অন্যত্র কর্মরত থাকলেও বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রতি মাসের বেতন নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ডা. আতাউল গণি উসমানি নামের একজন মেডিসিন কনসালটেন্ট।

অপরদিকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ছয়টিতে কোনো চিকিৎসক নেই। রায়পুর ইউনিয়নের দশধার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক থাকলেও বর্তমানে তিনি বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনসহ চিকিৎসক, নার্স ও তৃতীয় শ্রেণীর আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ওই আবাসিক ভবনগুলোর ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ফলে এসব আবাসিক ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ চার বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে ভুক্তভোগী রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের ক্লিনিকগুলো থেকে অধিক মূল্যে এক্স-রে করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও এটি রাখার গ্যারেজটি অকেজো। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ছয়জন, এমএলএসএস চার জনের মধ্যে রয়েছেন একজন, ঝাড়ুদার চার জনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন এবং আয়ার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যার হলেও শয্যা রয়েছে ২৪টি।

এর মধ্যে বেশির ভাগ শয্যাই নড়বড়ে। বৈদ্যুতিক ফ্যান ৩১টি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৬টি। স্টোর রুমে এসি থাকার কথা থাকলেও নেই এসির কোনো ব্যবস্থা। আর বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এতে সরকারি ওষুধসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগী আবদুল জলিল জানান, তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও নাপা ট্যাবলেট ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ দেয়নি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। একই রকম অভিযোগ করেছেন ভর্তিকৃত রোগী সাফায়েতসহ আরও অনেকেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চিকিৎসকদের শূন্য পদসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter