মাইকিং করে জাটকা বিক্রি
jugantor
মাইকিং করে জাটকা বিক্রি
চরফ্যাশনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত

  চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চরফ্যাশন উপজেলায় জেলেদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে জাটকা সংরক্ষণের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে চলছে জাটকা শিকার। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু চরফ্যাশন উপজেলায় জাটকা ধরা বন্ধে কোনো অভিযান পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বরং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাইকিং করে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। এদিকে জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে বেকার জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল তারা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। শনিবার উপজেলার দক্ষিণ আইচা বাজারের প্রধান সড়কের পাশে মাইকিং করে জাটকা ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে সবুজ নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে। মাইকিংয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী সবুজ জাটকা ইলিশের দাম ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাটকা বিক্রির বিষয়ে এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মাছ বিক্রি ছাড়া বিকল্প কোনো কাজ না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই তাদের জাটকা বিক্রি করতে হচ্ছে। আর এ সময়টায় অন্য কোনো মাছ না পাওয়ায় তারা জাটকা বিক্রি করছেন। জানা গেছে, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে প্রতিনিয়ত জেলেরা জাটকা ধরে চরফ্যাশনের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামে চাপিলার নামে বিক্রি করছেন। এখন ৫০ টাকায় দু-তিন ইঞ্চি আকারের যে জাটকার ভাগ বিকিকিনি হচ্ছে দুমাস পরেই তার দাম হতো এক লাখ টাকা। এভাবেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জাটকা শিকার করে টমটম ও বোরকে করে চরফ্যাশনের বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। জাটকা ইলিশ বিক্রি করেন উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি মাছঘাটে। কোস্টগার্ড ও পুলিশকে ম্যানেজ করে যেমনি ধরা হচ্ছে তেমনি বাজারেও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একশ্রেণির প্রভাবশালী নৌকা, ট্রলার নিয়ে রাত-দিন জাটকা ইলিশ ধরছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন ১০ টন জাটকা নিধন করা হয়। খেজুরগাছিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, পশ্চিম পারের একশ্রেণির জেলে জাটকা ধরে তাদের এলাকায় বিক্রির জন্য আসেন। গভীর রাতে এসব জাটকা বিকিকিনি হচ্ছে। ভোর না হতে তা ঝুড়ি ভরে গ্রামে গ্রামে চাপিলা বলে ৫০ থেকে ৭০ টাকা করে ভাগ বিক্রি করা হয়। এখন যে মাছ ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে তা দুমাস পরই এক লাখ টাকা দাম হতো বলে জানান স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ডের কাছে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কোস্টগার্ডকে ম্যানেজ করেই এসব মাছ ধরা হচ্ছে। সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, তাদের ম্যানেজ করেই চিহ্নিত জেলেরা জাটকা ধরছে। এদিকে নদীতে জাটকা ধরে নদীর মধ্যেই বড় ট্রলারে জাটকাসহ অন্য সব মাছ মজুদ করা হয়। পরে তা ওপেন ডাকে বিক্রি করা হয় বলেও জানান স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী। এছাড়া হাতিয়া-মনপুরা-দৌলতখান-ঢাকা রুটের লঞ্চ ও চরফ্যাশন-ঘোষেরহাট-ঢাকা, লালমোহন-ঢাকা, বোরহানউদ্দিন-ঢাকা রুটের লঞ্চে জাটকা ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মাইকিং করে জাটকা বিক্রি

চরফ্যাশনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত
 চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চরফ্যাশন উপজেলায় জেলেদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে জাটকা সংরক্ষণের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে চলছে জাটকা শিকার। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু চরফ্যাশন উপজেলায় জাটকা ধরা বন্ধে কোনো অভিযান পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বরং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাইকিং করে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। এদিকে জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে বেকার জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল তারা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। শনিবার উপজেলার দক্ষিণ আইচা বাজারের প্রধান সড়কের পাশে মাইকিং করে জাটকা ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে সবুজ নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে। মাইকিংয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী সবুজ জাটকা ইলিশের দাম ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাটকা বিক্রির বিষয়ে এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মাছ বিক্রি ছাড়া বিকল্প কোনো কাজ না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই তাদের জাটকা বিক্রি করতে হচ্ছে। আর এ সময়টায় অন্য কোনো মাছ না পাওয়ায় তারা জাটকা বিক্রি করছেন। জানা গেছে, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে প্রতিনিয়ত জেলেরা জাটকা ধরে চরফ্যাশনের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামে চাপিলার নামে বিক্রি করছেন। এখন ৫০ টাকায় দু-তিন ইঞ্চি আকারের যে জাটকার ভাগ বিকিকিনি হচ্ছে দুমাস পরেই তার দাম হতো এক লাখ টাকা। এভাবেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জাটকা শিকার করে টমটম ও বোরকে করে চরফ্যাশনের বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। জাটকা ইলিশ বিক্রি করেন উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি মাছঘাটে। কোস্টগার্ড ও পুলিশকে ম্যানেজ করে যেমনি ধরা হচ্ছে তেমনি বাজারেও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একশ্রেণির প্রভাবশালী নৌকা, ট্রলার নিয়ে রাত-দিন জাটকা ইলিশ ধরছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন ১০ টন জাটকা নিধন করা হয়। খেজুরগাছিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, পশ্চিম পারের একশ্রেণির জেলে জাটকা ধরে তাদের এলাকায় বিক্রির জন্য আসেন। গভীর রাতে এসব জাটকা বিকিকিনি হচ্ছে। ভোর না হতে তা ঝুড়ি ভরে গ্রামে গ্রামে চাপিলা বলে ৫০ থেকে ৭০ টাকা করে ভাগ বিক্রি করা হয়। এখন যে মাছ ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে তা দুমাস পরই এক লাখ টাকা দাম হতো বলে জানান স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ডের কাছে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কোস্টগার্ডকে ম্যানেজ করেই এসব মাছ ধরা হচ্ছে। সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, তাদের ম্যানেজ করেই চিহ্নিত জেলেরা জাটকা ধরছে। এদিকে নদীতে জাটকা ধরে নদীর মধ্যেই বড় ট্রলারে জাটকাসহ অন্য সব মাছ মজুদ করা হয়। পরে তা ওপেন ডাকে বিক্রি করা হয় বলেও জানান স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী। এছাড়া হাতিয়া-মনপুরা-দৌলতখান-ঢাকা রুটের লঞ্চ ও চরফ্যাশন-ঘোষেরহাট-ঢাকা, লালমোহন-ঢাকা, বোরহানউদ্দিন-ঢাকা রুটের লঞ্চে জাটকা ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন