ঈদে দৌলতদিয়া ঘাটে এবারও দুর্ভোগের শঙ্কা

শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের তোড়জোড়

  গোয়ালন্দ প্রতিনিধি ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশ দ্বারখ্যাত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বিভিন্ন কারণে যাত্রী ও চালকদের প্রায় বছরজুড়ে নানা দুর্ভোগ লেগেই থাকে। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে তা অসহনীয় মাত্রায় রূপ নেয়। বিশেষ করে দুই ঈদে এ ঘাট দিয়ে চলাচলকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এতদিন দুর্ভোগ এড়াতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হলেও সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তোড়জোড় শুরু করেছে। সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত ফোরলেন মহাসড়কের একপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তের কারণে অনেক সময় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সৃষ্টি হয় যানজট। একটু বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে যায়। মাঝে মধ্যে রাস্তায় যানবাহন বিকল হওয়াসহ উল্টানোর চিত্রও চোখে পড়ে। অপরদিকে বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪টি ফেরি ঘাটের মধ্যে দুটি ঘাট সচল রয়েছে। বাকি ১নং ও ৪নং ফেরি ঘাট আংশিক সচল রয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিবহরে ১৫ থেকে ১৬টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চলাচলকারী ফেরিগুলো অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় দমকা হাওয়া, তীব্র স্রোতে অনেক ফেরি রাতে চলাচল করতে পারে না। এতে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয় নদীপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঈদের বাড়তি যাত্রী ও যানবাহন সামাল দিতে এ রুটে অন্তত ২০-২২টি ফেরি সচল থাকা দরকার। গত রোববার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সভায় তিনি জানান, ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপার করতে দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে। কোনো অবস্থায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কোনো প্রকার বাস এবং মাহেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেয়া হবে না। সর্বোপরি ঘাট এলাকার নিরাপত্তার কথা ভেবে ঈদের আগেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতেও প্রশাসন কঠোরভাবে নজরদারি করবে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গত ঈদে ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছিল। তার পরও বেগ পেতে হয়েছিল। এখন গাড়ির সংখ্যা আরও বেড়েছে। সে অনুযায়ী ফেরির সংখ্যা বাড়াতে না পারলে ঈদের চাপ সামাল দেয়া কঠিন হবে। রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোরলেন মহাসড়কের এক পাশে রিপিয়ার কার্পেটিং সিলকোডের কাজ আগামী দুই সপ্তারের মধ্যে করে ফেলা হবে। আশা করি আসন্ন ঈদে এখান দিয়ে যানবাহন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×