পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র

টাকায় মেলে জখমি সনদ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকা দিলেই মেলে ভুয়া জখমি সনদ! এখানে টাকা দিলেই সুস্থ মানুষেরও মাথা কেটে গভীর ক্ষত জখম তৈরি করে ভর্তি করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া হয় গুরুতর এসব জখমি সার্টিফিকেট। হাসপাতালের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে এ রমরমা অনৈতিক সার্টিফিকেট বাণিজ্য। এক শ্রেণীর প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী লোকজন সামান্য ঘটনাতেও হাসপাতাল থেকে জখমি সনদ নিয়ে মামলার জালে জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কিংবা সম্পত্তি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এ সুযোগ। আর এ অনৈতিক সার্টিফিকেট বাণিজ্যের ফাঁদে পরে মিথ্যে মামলায় সীমাহীন হয়রানি ও জেল-জরিমানার মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ নিরীহ মানুষ।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে চুক্তি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মাথা কেটে জখমি ও সার্টিফিকেট বানানোর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রমাণ। মিলেছে টাকার বিনিময়ে জখমি সেজে ভুয়া জখমি সনদ সুবিধা গ্রহণকারীদের ভাষ্য, ভুয়া সনদ, ভুয়া ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট ও টাকার বিনিময়ে মাথা কেটে জখমি সাজানো চক্রের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও ক্লিপ। একই ঘটনায় টাকার বিনিময়ে দু’পক্ষের সুস্থ নারীদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে মাথা কেটে জখমি সার্টিফিকেট প্রদানের সূত্র ধরে প্রকাশ পায় এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর, বাহাদিয়া ও হোসেন্দী আতকাপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারের নারী-পুরুষ এখন পুড়ছে টাকার বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে কেনা ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটের আগুনে। বানানো মিথ্যা জখমি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সাজানো মামলায় জড়িয়ে কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আর কেউবা করছেন হাজতবাস। এদের মধ্যে মির্জাপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ও খোকন মিয়ার পরিবার এক বিত্তশালীর প্ররোচনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয়ে নারী সদস্যদের এ ধরনের মাথা কাটা জখমি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে জড়িয়ে পড়েছে মামলায়। গিয়াস উদ্দিনের পরিবারের রোকসানা আক্তার ও শিল্পী আক্তার এবং খোকন মিয়ার পরিবারের সুফিয়া খাতুন, আসমা খাতুন ও পপি আক্তার নামে পাঁচ অবলা নারীকে ব্যবহার করে নেয়া হয় মাথা কাটা জখমি সনদ। এ দুই পরিবারের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন ২০ দিন ও তার ছেলে শরীফ ২ দিন হাজতবাস করে জামিনে বাড়ি ফিরলেও খোকন মিয়া ও তার লোকজন এখনও ফেরারি রয়েছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার রউফ এ সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন এবং তবে এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে সৈয়দুজ্জামান ঝিনুক নামে ওয়ার্ড বয়কে জরুরি বিভাগ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। কিন্তু ওয়ার্ড বয় সৈয়দুজ্জামান ঝিনুক জানান, এসব কাজ কী একা করা সম্ভব? তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং তাকে জরুরি বিভাগ থেকে সরাতে একটি মহল তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলছেন বলেও দাবি করেন ঝিনুক। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কঠোর শাস্তির হুশিয়ারি দিলেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান। বললেন এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে কিশোরগঞ্জের আইন কর্মকর্তা (পিপি) শাহ আজিজুল হক বললেন, এ ধরনের ঘটনা দুর্নীতি দমন আইন ও বিভাগীয় শাস্তির আওতাভুক্ত অপরাধ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×