দিরাই ও শাল্লায় কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াউর রহমান লিটন, দিরাই

সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ২ কোটি টাকার কাজে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। ফাইল ওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংভাগই ভাগবাটোয়ারা ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।

৩০ ভাগ দরিদ্র নারী শ্রমিক বাদ দিয়ে এমনকি দরিদ্রদের পরিবর্তে ভুয়া শ্রমিক তালিকা তৈরি করে কয়েকটি সিন্ডিকেট পিআইও অফিসের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে পিআইও অফিসের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার, চেয়ারম্যান, প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ অনেকেই। ফলে এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর যেমন দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি তেমনই অতি দরিদ্ররাও হারাচ্ছে তাদের কাজের অধিকার। দিরাই ও শাল্লা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় দুই উপজেলায় মোট ৬৩টি প্রকল্পের অনুকূলে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৩টি ইউনিয়নের কর্মহীন অতি দরিদ্র নারী-পুরুষ মাথাপিছু দৈনিক ২শ’ টাকা মজুরিতে ৪০ দিন কাজ করার কথা। কিন্তু প্রকল্প সভাপতিরা এস্কেভেটর দিয়ে দরিদ্রদের বাদ দিয়ে ধনাট্য ও আত্মীয়স্বজনদের নামে ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি করে ভাগভাটোয়ারা করে কাজ সম্পন্ন করে নেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দের ২০ পার্সেন্ট টাকা পিআইও অফিসে, ১০ পার্সেন্ট টাকা ইউপি চেয়ারম্যানকে এবং ট্যাগ অফিসারকে দিতে হচ্ছে ৫ পার্সেন্ট টাকা। এভাবেই ভাগভাটোয়ারা করে সম্পন্ন হয়েছে এ অর্থবছরের কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের কাজ। দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের আরও ২ কোটি টাকা ভাগভাটোয়ারা করার সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় শ্রমিক সংখ্যা, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ও মাটির পরিমাণসহ বিস্তারিত লেখা সংবলিত সাইন বোর্ড টানানো থাকার কথা থাকলেও কোথাও কোনো সাইন বোর্ড টানানো হয়নি। প্রথম পর্যায়ে দিরাই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে গৃহীত ৪৩টি গ্রকল্পের অনুকূলে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ও শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ২০টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু প্রকল্প সভাপতি পিআইও ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের যোগসাজশে তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে কাজ না করে এস্কেভেটর ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়। শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর ঈদগাহের পুকুরে মাটি ভরাট প্রকল্পে ৭৫ জন শ্রমিকের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। স্থানীয়রা জানান, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু-মাটি ফেলে পুকুরটি ৩-৪ দিনে ভরাট করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোনো শ্রমিক প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ কনেনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে দিরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, ২শ’ টাকা রোজে কেউ কাজ করতে চায় না, সারা দেশে এভাবেই কাজ হচ্ছে, লিখলে কিছুই হবে না।