লাকসামে সড়ক বেহাল সীমাহীন জনদুর্ভোগ

১২ কিলোমিটার সড়কে ১২শ’ গর্ত

  এমএ মান্নান, লাকসাম ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাকসাম জংশন থেকে খিলাবাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিমি. সড়কে প্রায় ১২শ’ ছোট-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাকা সড়কটি কাঁচারাস্তার মতো হয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে।

কুমিল্লা-লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ। ফলে পথচারীসহ পরিবহন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ সড়কে চলাচলরত মানুষের যানবাহনগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। সরেজমিন দেখা যায়, লাকসাম জংশন, মিশ্রি, চাঁদপুর রেলগেট, বাইপাস, ফতেপুর, চন্দনা বাজার সড়কের মাঝখানেই সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত তৈরি হওয়ায় এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীদের যাতায়াত করতে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে।

দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গভাবে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও খানাখন্দের সৃষ্টি হয় বারবার। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েকদিন পরপর নামমাত্র এসব গর্তে সুড়কি, ইট, বালু দিয়ে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করলেও এর স্থায়িত্ব হয় অল্প কয়েকদিন, পরে আবার যেই সেই। ভাঙাচোরায় তছনছ হওয়া এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব গর্তে পানি জমে ময়লা ও কাদাজলে একাকার অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো দিয়ে সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, চলাচলের সময় চাকা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে আর বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস চলাচলে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

এ সড়কে সওজ কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে কার্পেটিংয়ের উপরের স্তর তুলে বা যেখানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে সেখানে কিছু পাথর আর খোয়া দিয়ে দায়সারাভাবে মেরামত করে আসছে। এ সড়কটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও সওজের তাতে যেন কিছুই যায় আসে না। এমন দায়সারা কাজ করে চলেছে এ দফতরটি।

তিশা পরিবহনের চালক স্বপন মিয়া জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঢাকা-লাকসাম মহাসড়কে ড্রাইভিং করে আসছি। কিন্তু কুমিল্লা থেকে লাকসাম অঞ্চলের সড়কগুলোতে গত তিন বছর ধরে খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফতাব উল্যাহ চৌধুরী জানান, সড়ক ও জনপথের উদাসীনতার কারণে এ সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রতিদিন এ সড়কে ছোট-বড় দুর্র্ঘটনা ঘটছে।

এ ব্যাপারে লাকসাম পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পৌর এলাকাধীন সড়কের দুই পাশে ড্রেন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সওজ বিভাগের সড়কটি ফোরলাইন করবে বিধায় আমাদের ড্রেন করতে দেয়নি। সওজ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঈদের আগেই যানবাহন চলাচল ও মানুষ ভোগান্তিতে যেন না পড়ে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথের উপ-সহকারী রেজাহী রাব্বী বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সড়কের পাশে দোকানপাটের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়। আমরা সড়কটি পরিদর্শন করেছি। দু’-এক দিনের মধ্যেই বড় বড় গর্তগুলো ভরাট করে এ সড়কের যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.