কুমিল্লায় নষ্ট হচ্ছে জব্দ করা যানবাহন

আইনের গ্যাঁড়াকলে নিলাম কিংবা মালিক পক্ষকে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় আইনি জটিলতায় বিকল হচ্ছে পুলিশের হাতে আটক ও জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন। মাদক, ইয়াবা, চোরাচালান ও নানা অবৈধ পণ্য পাচার এবং চুরি ডাকাতি ছিনতাইয়ে ব্যবহারসহ মামলার আলামতে জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জেলার ১৭ থানায় এমন কয়েক হাজার মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেটকার, বাস, মাইক্রোবাস ও ট্রাক অযত্ন অবহেলায় বিকল হচ্ছে। এতে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার ১৭ থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা চেকপোস্ট কিংবা তথ্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সড়ক-মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে নানা প্রকার যানবাহন আটক করছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, চোরাচালান ও নানা অবৈধ পণ্য পাচার এবং চুরি ডাকাতি ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেটকার, বাস, মাইক্রোবাস ও ট্রাক আটক করা হচ্ছে। এছাড়াও মামলার আলামত কিংবা কাগজপত্র না থাকার কারণেও বিভিন্ন প্রকার যানবাহন আটক করা হচ্ছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বছরের পর বছর থানায় পুলিশ হেফাজতে থেকে বিকল হয়ে যাচ্ছে। আটক এসব যানবাহনের অধিকাংশই মালিক পক্ষ তাদের মালিকানা প্রমাণ করতে পারছে না। আইনি জটিলতার কারণে এসব যানবাহন যেমন মালিক পক্ষ ছাড়িয়ে নিতে পারছে না তেমনি আদালতে নির্দেশনা ছাড়া পুলিশও নিলামে বিক্রি করতে পারছে না। এতে জেলার ১৭ থানায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে হাজার হাজার যানবাহন একেবারেই বিকল হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে জেলার কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে দেখা যায়, ১৬৭টি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার বাস ও অন্যান্য যানবাহন ৭৫টি এবং ৮০টি রিকশা জব্দ অবস্থায় পড়ে আছে। সদর দক্ষিণ থানায় আছে ৯৪টি মোটরসাইকেল, কার ও মাইক্রোবাস ২৭টি, ট্রাক ১৯টি ও রিকশা ১৭টি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া পিপিএম বলেন, মাদকবহন, কাগজপত্রবিহীন, অবৈধ কাজে ব্যবহারসহ নানা অভিযোগে প্রতিদিন যে হারে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন আমাদের কাছে আটক হচ্ছে, সে হারে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। নিলামে বিক্রি করলেও তা অনেক কম দামে বিক্রি করতে হয় ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। জব্দকৃত গাড়ির তুলনায় এগুলোর রাখার জন্য সে পরিমাণ জায়গা থাকা দরকার সে পরিমাণ জায়গাও আমাদের থানায় নেই। এর ফলে অনেক সময় থানার কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, গত ১৩ বছরে এখানে অনেক গাড়ি আটকের পর নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিকল হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্টরা যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করলে আইনি জটিলতা থেকে নিরসন হতো এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পেতো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×