নামেই বেরোবির ক্যাফেটেরিয়া

চা-বিস্কুট ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না

  বেরোবি প্রতিনিধি ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর নানান আন্দোলনের ফসল ক্যাফেটেরিয়া বর্তমানে নামমাত্র খোলা রয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে চালু হওয়ার পর থেকে শুধু চা-বিস্কুট ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। এ পর্যন্ত তিনবার টেন্ডার আহ্বান হলেও টেন্ডারের অযৌক্তিক শর্তে কেউ আগ্রহ প্রকাশ করে না। ক্যাফেটেরিয়ায় বিক্রি সামান্য হলেও তার তিনগুণ বেতন পান পরিচালক ও দু’জন সহকারী পরিচালক, একজন সহকারী রেজিস্ট্রার, একজন কম্পিউটার অপারেটর এবং ১০ জন কর্মচারী। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নানান আন্দোলনের মূল বিষয়বস্তু ছিল ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটেরিয়া চালু করাকে কেন্দ্র করে দুই ভিসির আমলে শিক্ষকদের দুই গ্র“প নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামিয়ে দেয়ার নজির অনেক। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১ নভেম্বর চালু করা হয় শিক্ষার্থীদের প্রাণের ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটেরিয়া চালুর ৭ মাস হলেও আসল উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের জায়গা। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার না পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে নির্ভর করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের হোটেলগুলোর ওপর। যার খাবারের মান এবং দাম নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। চালু হওয়ার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ক্যাফেটেরিয়ায় চা-বিস্কুট ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না। গ্রহণযোগ্য খাবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পান না বলে ক্যাম্পাসের বাইরের হোটেলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভের অংশটুকু বাইরের হোটেল ব্যবসায়ীরা অনায়াসে পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে বিভিন্ন হোটেল ব্যবসায়ীর কাছে শিক্ষার্থীরা এক ধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গত বছরের ৩ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী শিকদার রফিক হোটেলের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে হোটেলের ভেতর ঢুকিয়ে হোটেল মালিক-কর্মচারীরা মারধর করে। শিক্ষার্থী মারধরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ক্যাফেটেরিয়ায় মৌলিক খাবার না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়মুখী হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাপটে টেকা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। প্রতি দোকানে বাধ্যতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া আছে ‘মামা বলা যাবে না’। দোকান ব্যবসায়ীদের মামা বললে তারা চড়াও হয় বলে জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে ক্যাফেটেরিয়া চালু হওয়ার পর থেকে ৩ বার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও টেন্ডারের অযৌক্তিক শর্তে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন একাধিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসন শর্ত দিয়েছে মাত্র ৬ মাসের জন্য ক্যাফেটেরিয়া বরাদ্দ পাবে সঙ্গে জামানত বাবদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা ক্যাফেটেরিয়ার ভাড়ার সঙ্গে আলাদাভাবে পানি বিদ্যুৎ বিল আমাদের পরিশোধ করতে হবে। তারা জানান, ৬ মাসের জন্য টেন্ডার ক্রয় করে কেউই ফকির হতে নারাজ। আড়াই লাখ টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করতে হবে ক্যাফেটেরিয়া চালানোর জন্য যেটা ৬ মাসে ওঠা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিয়োগ দিয়েছে। টেন্ডারের বিষয়ে বলেন, তিনবার টেন্ডার আহ্বান করেছি, আমাদের শর্তে কেউ রাজি না হলে কিছু করার নেই।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.