বদরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে সংসার পেতে বসবাস

  রংপুর ব্যুরো ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের বদরগঞ্জে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক দখল করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর খামারবাড়ী এলাকায় ক্লিনিকের দুটি কক্ষ দখল করে প্রায় তিন বছর ধরে বসবাস করছেন এলাকার প্রভাবশালী সাইদ হোসেন। ফলে সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার যে কার্যক্রম তা ভেস্তে যেতে বসেছে। জানা যায়, ২০০১ সালের দিকে সন্তোষপুর গ্রামের সাইদ হোসেনের বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে সাইদ হোসেন কমিউনিটি ক্লিনিকটি দখল করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

তিনি নিজের পুরনো বাড়ি ভেঙে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ কারণে বাড়ির আসবাবপত্র, গবাদিপশুসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সাইদ হোসেন ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে বসবাস করে আসছেন। এমনকি ক্লিনিকের চাবিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তাদের দাবি অল্প কিছুদিনের মধ্যে নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হলেই তারা ক্লিনিকটি ছেড়ে দেবেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিক চত্বরে একটি বাছুরসহ চারটি গরু পাশাপাশি বেঁধে রাখা হয়েছে। স্তূপ করে রাখা হয়েছে ঘরের নানা জিনিসপত্র। ক্লিনিকের বারান্দা ও আঙিনায় আলাদা টিনের চালা ওঠানো হয়েছে। কক্ষ ও আঙিনায় শুকানো হচ্ছে কাপড়। এমনকি কক্ষের ভেতরেও সংসার পেতে বসবাস করছে সাইদের স্ত্রী ঝুমুর বেগম। রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার একটি কক্ষে ঝুমুরের শিশুকন্যাকে লেখাপড়া করতে দেখা গেছে। বাইরে থেকে এসে হঠাৎ কেউ দেখলে বুঝতে পারবেন না এটা কমিউনিটি ক্লিনিক না বাড়ি। কমিউনিটি ক্লিনিক দখলে আছে এটা জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোকছেদুল হক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা স্বীকার করে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে এটা সত্যি। সাইদ হোসেনের দেখা পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, ‘ক্লিনিকের জমি আমরাই দান করেছি। আমাদের নতুন ভবনের কাজ হচ্ছে। এ কারণে ক্লিনিকের একটা রুম ব্যবহার করছি। যখন ডাক্তার আসেন তখন তা ছেড়ে দেই। আশপাশে আর কোনো জায়গা না থাকায় ক্লিনিকের ফাঁকা জায়গায় গরু বেঁধে রাখি। এতে কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেখানকার কর্তব্যরত কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার নিত্যানন্দ রায় বলেন, ‘দখলে থাকার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। পাশেই জমিদাতা একটি ভবন নির্মাণ করছেন, আশপাশে জায়গা নেই। তাদেরও মানসম্মান আছে। এজন্য একটু ছাড় দিতে হচ্ছে। তাদের সরে যেতে আর ৪-৫ মাস হয়তো সময় লাগবে।’ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল হাই রুবেল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কেউই কমিউনিটি ক্লিনিক দখল করে বসবাস করতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেন জানান তিনি।’

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.