রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

তবুও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৭ সালের ১৩ জুনের ভয়াবহ পাহাড় ধসে বিবর্ণ রাঙ্গামাটির ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আবার বৈরীপূর্ণ আবহাওয়া ও দুর্যোগের ঘনঘটা। তবু বিধ্বস্ত ভিটায় ঝুঁকিতে বাস করতে হচ্ছে বহু মানুষকে। কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে অনবরত হচ্ছে বৃষ্টিপাত, ঝড়-তুফান।

জানা গেছে, শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ এখনও বাস করছেন পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে- যাদের যাওয়ার মতো ঠাঁই নেই অন্য কোথাও। সরকারের পক্ষে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে বাড়িঘর করে দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু গত এক বছরেও এর কোনো প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। এদিকে আবার যে কোনো মুহূর্তে দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা জেনেও বাস করতে হচ্ছে ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে। অথচ ইচ্ছা থাকলেও যাওয়ার মতো ঠাঁই নেই অন্য কোথাও। শহরের রূপনগর এলাকার সাদিয়া বেগম, আবদুল হালিম, সুমি বেগম, ভেদভেদীর নতুনপাড়ার জীবনবসু চাকমাসহ অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, গত বছরের পাহাড় ধসের দুর্যোগে ভিটেবাড়িসহ সব হারিয়ে উঠতে হয়েছে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে। কষ্টে দীর্ঘদিন আশ্রয় কেন্দ্রে পড়ে থেকেছি। এরপর পুনর্বাসন ছাড়াই বিদায় করা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে। বিদায় বেলা কিছু টাকা, খোরাকি চাল আর দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য কোথাও ঠাঁইটুকু না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফের উঠতে হয়েছে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ভিটেবাড়ি গিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এভাবে ভেদভেদী, যুব উন্নয়ন অফিস এলাকা, রূপনগরসহ রাঙ্গামাটি শহর এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখনও ঝুঁকিতে বাস করছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু রাঙ্গামাটি শহরে ৩৩ স্থান এবং ৫৬৩ পরিবারকে পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সাইন বোর্ড বসিয়ে সেখানে বাস করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে এবং জানমালের ক্ষতি রক্ষায় পাহাড় ধসসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসনসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের লোকজনকে স্বেচ্ছায় নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। আগেভাগেই আশ্রয় কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি আছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলা ও দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার ও মেরামত কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, খাদ্য, ত্রাণ, জ্বালানি মজুদ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসের দুর্যোগে রাঙ্গামাটিতে ১২০ জনের প্রাণহানিসহ ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। আমরা আর রাঙ্গামাটিতে এ ধরনের কোনো দুর্যোগে প্রাণহানি চাই না। কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় বাস করা যাবে না। এরই মধ্যে বৃষ্টিপাত ও ঝড়-তুফান শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ছাড়তে হবে। অন্যথায় প্রশাসন উচ্ছেদে বাধ্য থাকবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.