ভেদরগঞ্জে স্কুল ভবন বুঝিয়ে দেয়ার আগেই চলছে সংস্কার

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১৮নং দক্ষিন মহিষার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই ভবনটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে ও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে ঐ ভবনের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কায়

রয়েছে তারা।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান ও অন্যান্যদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, প্রায় ১ বছর আগে ১৮নং দক্ষিন মহিষার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিস। ৭৯ লক্ষ টাকা চুক্তিতে এ ভবন নির্মানের দায়িত্ব নেয় মুজিবুর মোল্যা নামে স্থানীয় এক ঠিকাদার। কাজ শুরু করার পর থেকেই ঠিকাদার সেখানে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার শুরু করে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বার বার আপত্তি জানানো হলেও তা কর্ণপাত করেনি ঠিকাদার। এমনকি গভীর রাতে জনসাধারনের চক্ষু আড়ালে নিজেদের ইচ্ছা মত কাজ চালিয়ে গেছে তার লোকজন। ফলে ভবনটি বিদ্যালয় কমিটিকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং মেঝের বিভিন্ন স্থানে আস্তার উঠে বালি বেরিয়ে পড়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীদের চোখে পড়লে তড়িঘড়ি করে তা সংস্কার শুরু করে ঠিকাদার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা খানম লতা বলেন, ভবনটি নির্মানের শুরু থেকেই খুব নিম্নমানের রড, ইট ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে। বার বার বলার পরও ঠিকাদার আমাদের কথা শোনেনি। এখন আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানের আস্তর উঠে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মুজিবর মোল্যা বলেন, সব কাজই ঠিক আছে। তবে ফ্লোরে একটু সমস্যা হয়েছে। তা ইঞ্জিনিয়ার ও ইউএনও স্যার এসে নিয়ম অনুযায়ী করতে বলেছেন। আমরা কাজ পুর্নাঙ্গভাবে বুঝিয়ে দেব। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন খুব বাড়াবাড়ি করছে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, আমাদের লোকজনের অনুপস্থিতিতে ঠিকাদারের লোকজন ভবনটির ফ্লোরের কাজ কিছুটা নিম্নমানের করেছিল। তা পুনরায় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।