দখল দূষণে কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদী তীর

ঝুঁকিতে ইলিশের অভয়াশ্রম

  পটুয়াখালী ও কলাপাড়া প্রতিনিধি ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়াবাসীর প্রাণ আন্ধারমানিক নদী। নদীর পুরোটা সাগর মোহনা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। এই নদী ইলিশের প্রজননকালীন আশ্রয়সহ পোনা ইলিশের বড় হয়ে ওঠার নিরাপদ আবাসস্থল। এমনিতেই নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে এ বছর ভয়াবহ দখল-দূষণ শুরু হয়েছে।

ভূমিদস্যুদের আগ্রাসী থাবায় পায়রা বন্দরের উত্তর পাশে টিয়াখালী নদীর সংযোগ স্থল থেকে বালিয়াতলী খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীর তীর দখল করে রিংবেড়িবাঁধ দিয়ে বালুর ভরাট চলছে। কেউ কেউ স্লুুইস সংযুক্ত নদীর সঙ্গে সংযোগ খাল পর্যন্ত ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। পায়রা বন্দর ঘেঁষা এ দখলদারিত্ব চলছে। এক-দেড় বছর আগেও বনজঙ্গলে ঘেরা সবুজ অরণ্য এখন বিরানভূমি। পাঁচ-সাত ফুট বালুর নিচে চাপা পড়েছে প্রকৃতির রঙ, বাস্তবতা। এখন খাঁ খাঁ করছে নদীর ওয়াটার লেভেল পর্যন্ত। জোয়ারে কোমর সমান পানি ওঠে। শত শত একর সরকারি খাসসহ নদী তীর ভরাট চলছে ফ্রি-স্টাইলে। পরিবেশ বাদীসহ সবার মন্তব্য জোয়ারের সময় নদী তীরে যতদূর পানিতে প্লাবিত হয় ততদূর নদীর সীমানা। কিন্তু এখন আন্ধারমানিক নদীর দীর্ঘ এলাকা দখল-দূষণের গ্রাসে। দখলদারদের আগ্রাসী থাবায় ইলিশের অন্যতম আবাসস্থল আন্ধারমানিক এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বালিয়াতলী খেয়াঘাট থেকে কলাপাড়া পৌরসভার সীমানা পর্যন্ত আবার ইটভাটার মালিকরা ভরাট ও দখল করে যাচ্ছে। এরা আবার সোনাতলী নদীর দুই পাড় কেটে টপসয়েল এনে ব্যবহার করছে ইট তৈরির কাজে। পৌর এলাকায় আবার দখলদাররা নদী তীরে তুলছে পাকা ও সেমিপাকা স্থাপনা। এমনিভাবে বহুমুখী দখল চলছে আন্ধারমানিক নদীর দীর্ঘ এলাকায়। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ জানান, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অনেকে দখল করছে নদীর পাড়। তাতে ভূমি অফিসের লোকজন বাধা দিচ্ছে না। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার খাস সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে। অপরদিকে নদীরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। দখল ছাড়াও পলিতে নদীর দুই পাড় ভরাট হয়ে গেছে। এখন নিশানবাড়িয়া, টুঙ্গিবাড়িয়া, নিউপাড়া, নিজামপুরের উল্টোদিকে বিশাল এলাকাজুড়ে চর জেগে উঠেছে। চরম নব্য সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ইলিশের অভয়াশ্রম এ নদী রক্ষায় সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। নদীতে এখন ভরাটের পাশাপাশি ফ্রি-স্টাইলে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। খোদ কলাপাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় এই নদীতে। তবে দখলদার ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানিয়েছেন। তবে সচেতন মহলের অভিমত এখনই দখল-দূষণ ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter