বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান

ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘববোয়ালরা

  বগুড়া ব্যুরো ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ছিঁচকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ধরা পড়লেও রাঘববোয়ালরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গত ৩ দিনের অভিযানে ১১০ জন গ্রেফতার ও ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৬০ বোতল ফেনসিডিল ও ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। তবে যেসব ব্যবসায়ীর বাড়িতে ট্রাক দিয়ে মাদক নামানো হয়, যারা মাদকের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে সিসি ক্যামেরা সরবরাহ করে, যারা মাদক বিক্রি করে অনেক গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দিকে নজর দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু পত্রিকায় রিপোর্ট হলেই পুলিশ অতি তৎপরতা দেখায়। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, অভিযোগগুলো সত্য নয়। গ্রেফতার সবাই রাঘব-বোয়াল। তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, শহরের অর্ধশতাধিক স্পটে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। কোনো কোনো এলাকায় হিলিসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে ট্রাকে আনা মাদক নামানো হয়। বড় ব্যবসায়ীরা শুধু মাদক নয়, প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে ছোট ব্যবসায়ীকে সিসি ক্যামেরাও সরবরাহ করে থাকে। এর আগে ধুনট ও শাজাহানপুর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরাও উদ্ধার হয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই সমাজে ভদ্রবেশে চলাফেরা করে। রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। প্রশাসনের বড় কর্তাদের সঙ্গেও তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া ঘোনপাড়ার বিভিন্ন অলিগলিতে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা হয়। এ পাড়ায় পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী কানা সামসুল ছাড়াও অনেকে জড়িত। মাদক বিক্রি করে অনেকে একাধিক গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে। এছাড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া ঈদগাহ্ মাঠ সংলগ্ন ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয়ের বাড়ি, চকসুত্রাপুর, কাঠনারপাড়া, বাদুড়তলা, চেলোপাড়া, নামাজগড়, হাড্ডিপট্টি, কামারগাড়ি, জামিলনগর, মালগ্রাম, খান্দার, রহমাননগর, নারুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা চলে। শুধু শহরে নয়; মাদক ব্যবসা এখন উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ফোন দিলেই হেলমেট পরিহিত মাদক ব্যবসায়ীরা বাইকে মাদক পৌঁছে দিয়ে আসে। আবার ক্রেতারা প্রকাশ্যে এসে নিয়ে যায়। কোনো কোনো ব্যবসায়ী কক্সবাজার, হিলি সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবার নিয়ে ভ্রমণের নামে মাদক নিয়ে আসে। এলাকার লোকজন এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তারা অতিষ্ঠ হলেও প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস করেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক ব্যবসায়ী জানান, তারা লাভজনক এ ব্যবসায় একাধিক বিনিয়োগ করেন। গ্রেফতার হলে যাতে তারা নিঃস্ব না হন সে জন্য এ ব্যবস্থা। একবার গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে দ্বিতীয় পুঁজি (টাকা) দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের বেশিদিন কারাগারে থাকতে হয় না। অনেকের ব্যক্তিগত আইনজীবী আছেন; যারা দ্রুত সময়ে জামিন করে থাকেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, তাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের অভিযানে বড় বড় ব্যবসায়ীরাও ধরা পড়ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter