ঝুঁকিতে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা

  রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিতেই রয়ে গেল রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। গত বছর ১৩ জুনের পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয় রাঙ্গামাটির সড়কগুলো। এবার বর্ষার আগেই বিধ্বস্ত সড়ক ও সেতুগুলো স্থায়ী মেরামত করে ঝুঁকিমুক্ত করার কথা থাকলেও তা আর হল না। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের ছাড় না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে দুর্যোগ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় থেকে গতবারের মতোই সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ১১ মাস পরে আবার বর্ষা আসায় জনমনে তৈরি হয়েছে পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা। যে কোনো মুহূর্তে দুর্যোগে রাস্তাঘাটসহ নানা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে এখানকার মানুষ।

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, জুনের আগেই রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ১২৮টি স্থানে স্থায়ী মেরামত ও পুননির্মাণ কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজও তা ছাড় করা হয়নি। এ অবস্থায় বর্ষার আগে কাজ করার সম্ভাবনা আর নেই। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় না পাওয়ায় কাজে হাত দেয়া যায়নি। চলতি অর্থবছরে বিশেষ করে জুনের আগে অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে স্বীকার করেন, এ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন।

তিনি বলেন, সড়কগুলোর স্থায়ী মেরামত ও পুনর্নির্মাণে ১৬ এপ্রিল ১৭০ কোটি টাকার ডিপিপি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ডিপিপি প্রস্তাবনায় জেলার বিভিন্ন সড়কের ১২৮ পয়েন্টে ৪ হাজার ৭২৫ মিটার পাইলসহ রিটেইনিং ওয়াল এবং স্লোপ প্রটেকশন নির্মাণ ও কিছু সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অভ্যন্তরীণ যাচাই কমিটির সভার অপেক্ষায় আছে প্রস্তাবনা। সেখানে পাস হলে প্ল্যানিং কমিশনে যাবে। সেখানে অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পেলেই তখন কাজ শুরু করতে পারব। এটা এ বর্ষায় হবে না। আগামী শুষ্ক মৌসুমে হওয়ার আশা করছি।

জানা যায়, গত বছরের ১৩ জুন সবচেয়ে বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে রাঙ্গামাটিতে। এতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরই মধ্যে পাহাড় ধসের দুর্যোগের ১১ মাস অতিক্রম হয়েছে। অথচ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো আজও পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। ফলে আবার সড়ক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সদরসহ জেলার ৭ উপজেলা এবং পাশের দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দবানের অন্তত ১০ লাখ মানুষ এসব সড়কের ওপর নির্ভরশীল। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো গাছের খুঁটি আর মাটি ভরাট করে কেবল সাময়িক সংস্কার কাজেই ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। অথচ এসব টাকা খরচ করেও ঝুঁকি এড়াতে পারছে না রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক ধসের ১১ মাস পরও স্থায়ী কাজের উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, বর্ষার আগেই সড়কগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা দরকার ছিল। যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি আর আশঙ্কায় চলতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। যেনতেনভাবে করা এসব সাময়িক সড়ক সংস্কার কোনো কাজেই আসবে না। বর্ষায় আবার ভেঙে যাবে। প্রতিদিন গড়ে বাসসহ অন্তত কয়েকশ’ দূরপাল্লার যান চলাচল করছে এ সড়ক দিয়ে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter