ভেজালের নগরী এখন ভৈরব

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভৈরব প্রতিনিধি

ঈদ সামনে রেখে ভৈরবে ভেজালের ছড়াছড়িতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। প্রতিদিন শহরের মশলা মিলগুলোতে ভেজাল দিয়ে মশলা ভাঙানো হচ্ছে। সেমাই কারখানাগুলোতে মানহীন সেমাই উৎপাদন হচ্ছে। ফরমালিন মিশ্রিত ফল আম, লিচু, আপেল, তরমুজ বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভৈরব এখন ভেজালের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বৈধ ব্যবসায় মুনাফা নেই, তাই ভেজাল ব্যবসায় নেমে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ভৈরব শহরের বিভিন্ন সেমাই কারখানায় মানহীন সেমাই অবাধে উৎপাদন হচ্ছে। এসব উৎপাদিত সেমাই বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নামে বাজারজাত করছে। এক শ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী মশলার মিলে নিুমানের মরিচে সিঁদুর ও লাল রং, ধনিয়ায় কাঠের গুঁড়া, হুলুদে ডাল মিশ্রণ করে মশলা ভাঙিয়ে বাজারে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। শহরের বাসস্ট্যান্ড ও ভৈরব বাজারের বিভিন্ন দোকানে ফরমালিন মিশ্রিত ফল আম, লিচু, আপেল, তরমুজ বিক্রি করছে। এমনকি দুধ ও মাছেও ফরমালিন দিয়ে তাজা রেখে বিক্রি করা হয়। রোজার দিনে মুরিতেও ভেজাল দেয়া হচ্ছে। মুরির কারখানাগুলোতে মুড়ি সাদা করতে রাসায়নিক সার দিয়ে ভাজা হচ্ছে মুড়ি। এসব পণ্য ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল চিপস, আচার, লজেন্স, বিস্কুট, রুটি, কেক, পানিসহ নানা পণ্য উৎপাদন হচ্ছে অবাধে। অনেক কারখানা মালিক গোপন স্থানে কারখানা প্রতিষ্ঠিত করে এসব ভেজাল পণ্য অবাধে উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। ভৈরব পৌরসভার স্যানিটারি পরিদর্শক নাসিমা বেগম জানান, আমরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধ কারখানা ও দোকানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছি। তবে এ অভিযানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে হয়। ম্যাজিস্ট্রেটরা যখন সময় দেন তখনই অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল জানান, আমরা নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত করে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করছি।