সাটুরিয়া-গোলড়া সড়ক বেহাল

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাজাহান সরকার, সাটুরিয়া

সাটুরিয়া-গোলড়া ভায়া বালিয়াটি সড়কের বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা সড়ক কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানি গর্তে জমে থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া থেকে মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ১২ কিলোমিটার এ রাস্তায় দুরবস্থায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে বাস-ট্রাক আর ভারি যানবাহন। রিকশা, টেম্পো, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার। অতি সম্প্রতি সডক ও জনপথের উদ্যোগে দায়সারা গোছের মেরামত করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. কামালউদ্দিন আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে সড়কটি পুনর্নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হলেও উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ঝুলে আছে। তবে স্থানীয় ঠিকাদার দিয়ে ইট, পাথর সরবরাহ নিয়ে মেরামতের কাজ অব্যাহত আছে।

উপজেলার বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন জানান, সড়কের দুরবস্থার ফলে সম্প্রতি বালিয়াটি পশ্চিম বাজার এলাকায় চাকা গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনসেবা নামের মিনি বাস পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন ৩৫ জন যাত্রী। এত বড় দুর্ঘটনার পরেও ওই ভাঙা সড়কে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সড়ক বিভাগ। সরেজমিন দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাটুরিয়া-গোলড়া-বালিয়াটি সড়কে প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা গর্তে পড়ে টেম্পো, বাস, ট্রাকসহ রিকশা-ভ্যানও বিকল হয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সাটুরিয়া থানা চত্বরের সামনে গর্তগুলো নর্দমায় পরিণত হয়েছে। উত্তর কাওন্নারা সৈয়দ কালুশাহ মাঝারের পাশে বিশাল গর্ত হয়ে যাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম। দুই পায়ে কাঁদাপানি মারিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সাটুরিয়া-গোলড়া সড়কে উপজেলার গোলড়া হাইওয়ে থানার মোর জান্না, হরগজ মোর, ধুল্লা ও কৃষ্টপুর এলাকায় সড়কে বিশাল গর্ত পাড়ি দিতে গাড়িগুলো বিকল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। উত্তর কুষ্টিয়া এলাকায় সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সদর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাঁটু পানি জমে থাকার ফলে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির সীমা নেই। এ ব্যাপারে সিএনজিচালক আশরাফ, মোকসেদ ও খোকন জানান, বৃষ্টি হলে সড়কে গর্তে জমে থাকা পানিতে ছোট গাড়ি প্রায় তলিয়ে যায়, তারপরও কিস্তির টাকা আর পেটের ভাত জোগাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সওজের মানিকগঞ্জ এক্সচেঞ্জ মো. মহিবুল হক দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, সাময়িক একটু কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। আশা করি আগামী অর্থবছরে পুনর্নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।