ডোমার পৌরসভায় অবৈধ নিয়োগের পাঁয়তারা

  ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডোমার পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীভাবে অবৈধ লোক নিয়োগের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। এ অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ জানিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় টক অবদ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সূত্র মতে, ডোমার পৌরসভা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির জন্য পৌরসভাটি দীর্ঘ ১৯ বছরেও ‘গ’ শ্রেণীর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এ কারণে বছরের অধিকাংশ সময় কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা বকেয়া রাখতে হয়। নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও অন্যান্য বিল। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভাতা নিয়মিত না হওয়ার কারণে ন্যূনতম নাগরিকসেবা পাচ্ছে না পৌরবাসী। এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থাতেই বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র মনছুরুল ইসলাম দানু নিয়োগ বাণিজ্যের নিমিত্তে ২০১৫ সালে পৌর পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই পৌরসভার জন্য ৮টি ভিন্ন পদে দরখাস্ত আহ্বান করেন। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তৎকালীন কাউন্সিলর বজলুর রহমান বকুলসহ কাউন্সিলররা জেলা প্রশাসক বরাবর ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে মেয়র তৎকালীন কিছু কাউন্সিলরকে প্রলোভন দেখিয়ে মূল অভিযোগকারী বজলুর রহমান বকুলকে পাস কাটিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগপত্রটি কৌশলে প্রত্যাহার করে নেন। পরে মেয়র স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বের ছাড়পত্রের সময় বর্ধিত করে অনেকটা গোপনীয়ভাবে পরিষদের সভায় রেজুলেশন না করেই চলতি মাসের ১৯ তারিখ ফের সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন। এতে কার্য-সহকারী একজন, বাজার পরিদর্শক একজন, কনজারভেন্সি একজন, লাইসেন্স পরিদর্শক একজন, ড্রাইভার একজন, বাজার আদায়কারী একজন, সহকারী কর আদায়কারী একজন, পদোন্নতি একজনসহ মোট আটটি পদের বিপরীতে তার পছন্দের সব প্রার্থীকে নিয়োগের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেন। এ সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সলরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির কাছে মৌখিক অভিযোগ করলে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুনম পুষ্প চাকমা নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করে কাগজপত্রে চূড়ান্ত সুপারিশ না করেই চলে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর জানান, মেয়র তার বিএনপি দলীয় লোক উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মোজাফফর আলীর ছেলে ডোমার সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহবায়ক ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুনকে কর আদায়কারী পদে, নিজের ভাতিজি রেজোয়ানা হককে আদায়কারী, গাড়িচালক পদে মেয়রের ব্যক্তিগত গাড়িচালক শাহিন আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলীর পুত্র গোলাম বুলু বাবুকে এমএলএসএস পদে, পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিমুল হকের পুত্র শেখ কামালকে লাইসেন্স পরিদর্শক পদে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র গোলাম মোস্তফাকে কার্য-সহকারী পদে, মোশারফ আলীর ছেলে সফিকুল গণিকে বাজার পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। এদের মধ্যে ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন ও তার পিতা মোজাফফর আলীর বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নাশকতার মামলা রয়েছে। তারা আরও জানান, মেয়র তার প্রতিটি কাজেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না।

পৌরকর আদায়ে তার স্বচ্ছাচারিতা চরম আকার ধারণ করেছে। পৌর চত্বরের হোটেল ভাড়ার টাকা, ডোমার বাজারের টয়লেট ইজারার টাকা, রিকশা, অটোরিকশা থেকে আদায় করা রাজস্ব নির্দিষ্ট হিসাব নম্বরে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করেন না। এ বিষয়ে পৌর মেয়র মনছুরুল ইসলাম দানু জানান, আমি নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। এখন কথা বলতে পারব না । সাংবাদিকরা ফের কথা বলতে অনুরোধ করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনারা যা করার করেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.