পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীর ভিড়

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ৪র্থ দিনেও দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চুনারুঘাট : পর্যটকদের ঢল নেমেছিল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। এ বছর রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসে এখানে। পর্যটকদেরকে বেশি আকৃষ্ট করে সম্প্রতি চালু হওয়া ট্রি অ্যাডভেঞ্চার।

সাতছড়ি ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন আহমেদ জানান, ঈদের ছুটিতে এবার রেকর্ডসংখ্যক অতিথি এসেছেন এখানে। ঈদের দিন টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায় হয় ৭৫ হাজার টাকা। তিনদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আরও কয়েক দিন পর্যটকদের সমাগম থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, শুধু ঈদে নয়। চলতি অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক অতিথি আসে এই উদ্যানে। জুন মাস পর্যন্ত টিকিট বিক্রি থেকে ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। ঈদের ছুটির তিনদিনে শুধু হবিগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে এই উদ্যানে। প্রতি বছরই এই উদ্যানে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামে। বি-বাড়ীয়া থেকে আসা কলেজছাত্র ইমতিয়াজ জানান, এই বনের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। তারা দলবেঁধে এখানে এসেছেন ঈদ উপলক্ষে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : ফুলবাড়ী উপজেলায় বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বেছে নিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’টি। ঈদের ৪র্থ দিনে সেতুর দুই পাড়ে আনন্দঘন পরিবেশে হাজার হাজার মানুষের ঢলে মুখরিত। অনেকেই আবার শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি একনজর দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন। মঙ্গলবার সেতুটির দুই পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারও মানুষের সমাগম। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে কিশোর কিশোরী, নারী-পুরুষ ও পরিবার-পরিজন নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভ্যান, রিকশা, অটো, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মাইক্রোবাস নিয়েও এসেছেন। সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। অনেকেই ধরলায় ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। কেউ কেউ আবার ধরলার চরগুলোতেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। সেতুর দুই পাড়ে ১০ থেকে ১৫টি ফুচকা, চানাচুর, আইক্রিমের দোকানের পাশাপাশি চুড়ি, ফিতাসহ বিভিন্ন রকমারি দোকান বসেছে। সব দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ধরলাপাড়েই খানিকটা বিনোদন ও ভালোলাগার অনুভূতি পেতে মানুষের ঢল নামে।

দাউদকান্দি : কুমিল্লার হোমনায় নেই কোনো বিনোদন কেন্দ্র। এ উপজেলার শিশুরা বিনোদন ও মেধা বিকাশের জন্য বেছে নিয়েছে তিতাস নদীতে নির্মিত রামকৃষ্ণপুর ওয়াই ব্রিজ, হোমনা-বাঞ্ছারামপুর ব্রিজ, রঘুনাথপুর তিতাস ব্রিজ, কাঁঠালিয়া নদীতে নির্মিত মাথাভাঙ্গা-পাড়ারবন্দ ব্রিজকে।

মঙ্গলবার ব্রিজগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিনোদনের জন্য বের হয়েছেন। জানা গেছে, হোমনা উপজেলায় রয়েছে একটি সরকারি হাইস্কুল, সরকারী ডিগ্রি কলেজ, ডিগ্রি কলেজ, মহিলা কলেজ, ১৫ হাইস্কুল, ৩টি গার্লস স্কুল, ৯টি মাদ্রাসা, ৪৫টি কিন্ডারগার্টেন, একটি কৃষি ইন্সটিটিউট, একটি সরকারি হাসপাতাল ১০টি বেসরকারি হসপিটাল, বিএডিসি হিমাগার, একটি জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, স্টেডিয়াম, হেলিপ্যাড, সবচেয়ে দীর্ঘ ত্রি-মুখী (ওয়াই) ব্রিজ। সর্বোপরি এখানে রয়েছে একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল নেই কোনো শিশুপার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র।

মীরসরাই : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক মহামায়া, সর্বাধিক রূপসমৃদ্ধময় ঝর্ণা খৈয়াছরা ও রূপসী ঝর্ণায় মানুষের ঢল ছিল এবারের ঈদের ছুটির দিনগুলোতে।

ঈদের দিন ও এর পর থেকে প্রতিদিন দিনভর মহামায়া লেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করে। কেউ নৌকায় চড়ে লেকের দর্শনীয় স্থান ঝর্ণা, মনোমুগ্ধকর লেক আর প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যায়। পাহাড়, জল আর নীল আকাশে নিজেদের একাকার করে হারিয়ে যায় প্রকৃতিতে। কেউ বা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে খৈয়াছরা ঝর্ণা, বড় কমলদহ রূপসী ঝর্ণা, মীরসরাই হয়ে বোয়ালিয়া ঝর্ণাসহ বিভিন্ন ঝর্ণা দেখতে দলে দলে ছুটে আসে।

কুমিল্লা, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকেই এই সবদর্শনার্থীর অধিক আগমন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া স্থানীয় দর্শনার্থীও রয়েছে অনেকে।

আবার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় ও দর্শনার্থীদের বেশ সমাগম ঘটে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.