পীরগঞ্জে চাল নিয়ে চালবাজি

চালকল কাগজে আছে মাঠে নেই!

  গোলাম কবির বিলু, পীরগঞ্জ ২৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পীরগঞ্জে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে চালবাজি শুরু হয়েছে। কোনো চালকলে (হাস্কিং মেশিন) উৎপাদিত চাল খাদ্যগুদামে দিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগ অটো রাইস মিলের সঙ্গে আঁতাত করে চাল ক্রয় করায় চালকল মালিকরা তাদের চালের বরাদ্দপত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে চাতালের হাজার হাজার কর্মঠ শ্রমিক বেকার হয়ে আছে। অপরদিকে উপজেলার অনেক চালকল কাগজে আছে, মাঠে নেই। সেগুলোও চালের বরাদ্দ পেয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক চালকলের তালিকাও দিচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোরো সংগ্রহ- ২০১৮ তে উপজেলায় সরকার প্রতি টন চাল ৩৮ হাজার টাকায় ৪ হাজার ৩৬৯ টন চাল সংগ্রহ করবে। বরাদ্দের মধ্যে পীরগঞ্জ খাদ্য গুদামে ৩ হাজার ৫৬৯ টন এবং ভেণ্ডাবাড়ী খাদ্যগুদামে ৮শ’ টন সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য উপজেলার ২০২ জন চালকল মালিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি টন চালের মূল্য ২৮ হাজার থেকে ২৯ হাজার টাকা। প্রতি টনে ৯ হাজার টাকা করে লাভের আশায় চালকল মালিকরা এবারে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও সরাসরি তারা তাদের চালকলে উৎপাদিত চাল গুদামে দিতে পারছেন না। ফলে চালকল মালিকরা বাধ্য হয়ে অটো রাইস মিলে চালের বরাদ্দপত্র বিক্রি করেছেন। এবারে সংগ্রহকৃত ৪ হাজার ৩৬৯ টন চালের প্রতি টনে ৯ হাজার টাকা করে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার টাকা মুনাফা হবে। যার মধ্যে ৮৭ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মতো চালকল মালিকরা পাবেন। অপরদিকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা মুনাফা পাবে অটো রাইস মিল ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে চালকল মালিকরা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, হাস্কিং মিলের বরাদ্দ হলেও অটো মিলের চাল নেয়া হচ্ছে। এবারে চালের সংগ্রহ মূল্য বেশি হলেও আমরা লাভের মুখ দেখছি না। কারণ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা অটো রাইস মিলের চাল ক্রয় করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এমন শর্ত জুড়ে দেয়ায় বেকায়দায় পড়ে প্রতি টন চালের বরাদ্দপত্র ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় অটো রাইস মিলের কাছে বিক্রি করেছি। ফলে মোটা অংকের মুনাফা লুটে নিচ্ছে অটো রাইস মিল ব্যবসায়ীরা। তারা আরও জানায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রাফিন এগ্রো ফুডস্ লি. ওই চালের বরাদ্দপত্র ক্রয় করছেন। চাল সংগ্রহের উদ্বোধনী দিনেই রাফিন এগ্রো ফুডস্ লি. উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ দিয়েছে। ওই চাল কল এবং হাকিম ফুডস লি. সাড়ে ৬শ’ মে. টন করে চালের বরাদ্দ পেয়েছে বলে জানা গেছে। চালকলগুলোর চাতালে চাল উৎপাদন কার্যক্রম না থাকায় চাতালগুলোর হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে বসে আছে। খাদ্য গুদামে বছরে দুই মৌসুমে চাল একইভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে অনেক চালকল কাগজে আছে, বাস্তবে নেই, সেগুলোও চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছে। চালকলগুলো পরিদর্শনে দেখা গেছে, বেশকিছু চাতালের মাঠে ঘাস গজিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানায়, ‘হামরা হালের গরু হলেও হামাক জবো করি খাওয়া যাইতো। কাম-কাজ না থাকায় বেকার হয়া পড়ি আছি। গরুর চায়াও অধম হছি হামরা।’

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, এবারে ৩০ কেজি ওজনের বস্তায় চাল গুদামে সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ৩০ কেজির বস্তায় ৩০ টাকা করে উৎকোচ দাবি করলে পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ২০ টাকা হারে নির্ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এবারের বরাদ্দে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ বস্তা চালে ২০ টাকা হারে মোট ২৯ লাখ ১২ হাজার ৬৬৬ টাকা উৎকোচ নেয়া হচ্ছে। ফলে চালের গুণগতমানও দেখা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার উৎকোচ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, অটো রাইস মিলের চালের মান ভালো ও ওজন ঠিক থাকে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, হাস্কিং মিলে উৎপাদিত চাল ভালো হলে নেব। তবে অটো রাইস মিলের চালই নিচ্ছি। পাশাপাশি তিনি চালকলের তালিকা দেবেন না বলে জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter