অ্যাম্বুলেন্সে গলাকাটা ভাড়া

কুমিল্লায় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে জিম্মি রোগীরা

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চলছে রমরমা ভাড়া বাণিজ্য। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে এক শ্রেণীর অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকরা দেদার এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় ও কোনো কোনো চালক পাচার করছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালান। চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে এসব চালক রোগী বহনের পাশাপািশ অবৈধ এসব মালামালও হরহামেশা পাচার করে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাইওয়ে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এক শ্রেণীর চালক ও সিন্ডিকেট। এদিকে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও নামে-বেনামের সার্ভিসে গোটা জেলায় চার শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লায় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নামে মাত্র কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সরকারি এসব অ্যাম্বুলেন্সগুলোর বেশির ভাগই চালক নেই। আর এ সংকটকের সুযোগে জেলার আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এসব অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে রোগীদের জরুরি মুহূর্তে অসহায়ত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অহরহ। বিপদ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় এ বাহনটির কাছে প্রতিদিনই গলাকাটা ভাড়ায় জিম্মি হয়ে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। লাভজনক হওয়ায় ফিটনেস নেই এমন মাইক্রোবাসও অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় নীতিমালার অভাবে আধুনিক চিকিৎসা উপকরণ ছাড়াই কুমিল্লা শহর ও গ্রামে শত শত অ্যাম্বুলেন্স খেয়াল-খুশি মতো ভাড়ায় রাস্তায় দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। রোগী বহন ছাড়াও এসব অ্যাম্বুলেন্স এয়ারপোর্ট থেকে বিদেশ ফের যাত্রীও বহন করছে দেদারসে। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ চেষ্টা করেও ওইসব নামে-বেনামের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।কুমিল্লা নগরীতে সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতাল ঘিরে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি, দালালদের দৌরাত্ম্যসহ এক অরাজক পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে সরকারি বা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের নৈরাজ্য বন্ধে সরকারিভাবে কুমিল্লা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নিয়েও ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারছেন না। জেলায় অনুমোদিত প্রাইভেট হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তালিকা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানা ও নামে-বেনামি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সগুলোর কোনো তালিকা নেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। আর এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সগুলোই রোগীর স্বজনের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া নেয়। সূত্র জানায়, অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও নামে-বেনামের সার্ভিসে গোটা জেলায় চারশও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে পরিমাণ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সেখানেও চালক এবং যান্ত্রিক সমস্যায় পুরোপুরি সার্ভিস পাচ্ছেনা রোগীরা। কুমিল্লার ১৭ উপজেলার মধ্যে মেঘনা, মনোহরগঞ্জ ও সদর দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। আবার চৌদ্দগ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় অতিরিক্ত টাকায় বাইরে থেকেই মুমূর্ষু রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের বাইরে এ সার্ভিসের বেহালদশা খোদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে। পাঁচশ’ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সচল মাত্র একটি। অকেজো বাকি তিনটির ঠিকানা গ্যারেজে। জেলায় চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বড় জায়গাটি হচ্ছে কুমেক। এখান থেকে প্রতিদিন অনেক রোগীকে ঢাকায় নিতে হয়। কিন্তু কুমেকের সচল একটি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে রোগীর জন্য। আর তাই সরকারি এ হাসপাতালের সামনে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সের ভিড় বেশিই লেগেই থাকে। কুমেক ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের সামনে ব্যক্তিগত ও নামে-বেনামীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সগুলো সাধারণ মাইক্রোবাসে যন্ত্রাংশ সংযোজন করেই তৈরি করা হচ্ছে। এটির কোনোটির ফিটনেসও নেই। নেই আধুনিক জরুরি জীবন রক্ষাকারী কোনো সুবিধা। সুযোগ সুবিধা না থাকলেও ভাড়া আদায়ের সময় নেয়া হচ্ছে ইচ্ছামতো টাকা। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি অন্যতম অংশ। কুমিল্লায় সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সামনে নামে-বেনামের অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থেকে ‘রোগী ধারা বাণিজ্যে’ লিপ্ত থাকে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আহ্বান করা হয়েছিল প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলোর তালিকার বিষয়ে। এ ব্যাপারে অনুমোদিত প্রাইভেট হাসপাতাল এবং অনুমোদিত কিছু প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে সাড়া পাওয়া গেছে। তালিকার বাইরে থাকা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। কিন্তু এসব অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তি মালিকানা ও নামে-বেনামের হওয়ায় এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ অথবা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter