বেতাগীতে ঝুঁকিপূর্ণ ৬১টি লোহার ব্রিজে দুর্ভোগ

  বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার বেতাগীতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজকে দায়ী করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক আয়রন ব্রিজ এখন জনর্দুভোগের কারণসহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্রিজ মেরামত না করায় গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

জানা যায়, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজতর করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও জেলা পরিষদ কর্তৃক ’৮০ ও ’৯০-এর দশকে বেতাগী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৬১টি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূচিত হয় নতুন দিগন্ত। কিন্তু নির্মাণের পরবর্তী সময় থেকে এসব ব্রিজের কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে হয়েছে।

এর মধ্যে বিবিচিনি ইউনিয়নে সাতটি, বেতাগী ইউনিয়নে ছয়টি, হোসনাবাদ ইউনিয়নে এগারোটি, মোকামিয়া ইউনিয়নে আটটি, বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে নয়টি, কাজিরাবাদ ইউনিয়নে সাতটি, সরিষামুড়ি ইউনিয়নে তেরোটিসহ মোট ৬১টি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। তবে হোসনাবাদ ও বেতাগী সদর ইউনিয়নে তিনটি ব্রিজের একদম বিকল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যা চলাচলের একদম অযোগ্য। মূল পিলারসহ ক্রস এঙ্গেলে মরিচা পড়ে ভেঙে পড়েছে। অনেক ব্রিজের লোহার পাত ও এঙ্গেল চুরি হয়ে গেছে আবার অনেক ইউনিয়নে ব্রিজের মূল কাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ব্রিজগুলো যাত্রীসহ যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব ব্রিজ সংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। কাউনিয়া বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন জানান, ভাঙা বিধ্বস্ত কয়েকটি স্প্যান ও মরিচা ধরা ঝুলে পড়া লোহার এঙ্গেলের ওপর ঝুলে আছে তাদের এলাকার সেতুটি। উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে এমন কিছু সেতু আছে যেখানে চলাচলের সময় মানুষ উঠলে কখনো ডানে কখনো বামে কাত হয়। বেতাগী সদর ইউনিয়নের হোসেন আল মামুন জানান, ইউনিয়নের গেরদো লক্ষ্মীপুরা বাজারের খালের উপরের আয়রন ব্রিজটি ধসে পরার কারণে এটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মানুষ চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে ব্রিজের স্থানে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে খেয়া। এ ব্রিজ দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে গত ছয় মাসে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। কাজিরাবাদ ইউনিয়নের জুলহাস খান জানান, ’৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় ইউনিয়নের আয়রন ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সবগুলো ব্রিজ এখন বেহাল। কোনোটির স্প্যান নেই, কোনোটির লোহার অ্যাঙ্গেল নেই। উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। উল্লিখিত স্থানগুলোতে আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.