চসিকে অবৈধ ২৫ পশুর হাট

ইজারাদারদের বাণিজ্যে রাজস্ব হারাচ্ছে

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দুই স্থায়ী পশুর হাট ঘিরে চলছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য। উভয় হাটের আশপাশে ২৫টি ছোট-বড় গরু বাজারকে কেন্দ্র করে এ বাণিজ্য চলছে। বাজারগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা ও সড়কের ওপর বসানো হয়েছে। এর মধ্যে চসিকের স্থায়ী পশুর হাট নগরীর সাগরিকায় ১৪টি ও বিবিরহাটে ১১টি অননুমোদিত বাজার বসেছে। যদিও সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের। অভিযোগ রয়েছে- স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে সরকার দলীয় ক্যাডাররা এ বাজারগুলো পরিচালনা করছেন। ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব বাজারে বিক্রীত পশুর হাছিলের টাকা পেলেও তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

প্রতিবছর চসিকের এ দুটি স্থায়ী পশুর হাটের আশপাশে গড়ে উঠে অবৈধ হাট। স্থানীয় সরকার দলের ক্যাডারদের নামে পরিচালিত হলেও ব্যবসায়ীরা থাকেন নেপথ্যে। এ বাজারগুলোর কারণে যান চলাচলে ব্যাঘাতসহ ঘটে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা।

সরেজমিন নগরীর সাগরিকা ও বিবিরহাট পশুরহাটে গিয়ে দেখা যায়, স্থায়ী পশুরহাট কেন্দ্র করে বিভিন্ন নামে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় গরুর বাজার। এর মধ্যে শনিবার পর্যন্ত সাগরিকা এলাকায় এমন ১৪টি বাজার এবং বিবিরহাট এলাকায় ১১টি মিলে ২৫টি ছোট-বড় গরুর বাজার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে সাগরিকা মোড়ের দক্ষিণ পাশে বন্ধ থাকা কামালিয়া হোটেলের ভেতর ও সড়কের ওপর ‘বসর মামার গরুর বাজার’, সাগরিকা মোড়ের গাউসিয়া হোটেলের পাশে ‘আলী আজগর মামার গরুর বাজার’, সাগরিকা রোডের উত্তর পাশের মোড় থেকে বিডি সি ফুডস প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত ‘বসর মামার গরুর বাজার’, বিডি সি ফুডের পাশে বালুর মাঠে ‘ওয়াসিম মামার বাজার’, সাগরিকা গরু বাজারের সামনে ‘বসর মামার গরুর বাজার’, বিজয় বাবুর চায়ের দোকানের পেছনে পাঠানপাড়ার ‘জুয়েল মামার বাজার’, বাগদাদ মাঠে (ভাগিনার মাঠ) ও সি মার্কের সামনে বিএনপি নেতার নামে ‘নাজিম মামার গরুর বাজার’, কলাবাগান ও অলংকার মোড় আলীফ রেস্টুরেন্ট গলির মোড় থেকে শেষ পর্যন্ত ‘বসর মামার গরুর বাজার’, সাগরিকা উত্তর পাশের মোড়ে ‘মাসুম মামার বাজারে’, সাগরিকা মোড় থেকে সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ইউনুস মার্কেটের জায়গায় ‘ইউনুস মামার’ গরুর বাজার উল্লেখযোগ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দশ হাত জায়গা লম্বায় একেকটি ডোগা (খুঁটি) ৫০-৬০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হচ্ছে বেপারিদের কাছে। একেকটি খুঁটিতে ৭ থেকে ৮টি গরু রাখতে পারছে বেপারিরা। এছাড়া সড়কের ওপর তৈরি করা খুঁটি ভাড়া দেয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। তবে এ টাকার বড় একটি অংশ যাচ্ছে স্থানীয় থানা পুলিশের পকেটে- এমন অভিযোগ রয়েছে। আর সেজন্যই পুলিশ এসব বাজার বসতে এখনও পর্যন্ত বাধা দিচ্ছে না। চসিক সূত্র জানায়, এবারও নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৮টি পশুরহাট ইজারা দিয়েছে চসিক। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬টি অস্থায়ী এবং বাকি ২টি রয়েছে স্থায়ী পশুর হাট। নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত সাগরিকা গরুর বাজার ও পাঁচলাইশ থানায় অবস্থিত বিবিরহাট গরুর বাজার দুটি চসিকের স্থায়ী পশুর হাট। এছাড়া অস্থায়ী বাজারগুলো হল- কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিং এস্টেট, কাটগড় গরুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, স্টিল মিল গরুর বাজার, কমল মহাজন গরুর বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগল বাজার। গত ১১ আগস্ট নুর নগর হাউজিং এস্টেট ইলিয়াছ ব্রাদার্স মার্কেট মাঠে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ফিতা কেটে পশুরহাট উদ্বোধন করেন। জানতে চাইলে বিবিরহাট গরু বাজারের ইজারদার মো. জামশেদ খান যুগান্তরকে বলেন, ‘দুই বাজারের আশপাশের ছোট-বড় ব্যক্তিমালিকানাধীন হাটগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ব্যাপারে কোরবানি উপলক্ষে আমাদেরকে চৌহদ্দি (সীমানা) নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। নিয়ম মেনেই পশুরহাট পরিচালনা করছি।’ চৌহদ্দি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থায়ী বাজারগুলোকে কেন্দ্র করে এর আশপাশে প্রতিবছর ছোট-বড় কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন হাট বসে। স্থায়ী পশুরহাটে এমন কোনো চৌহদ্দি দেয়া হয়নি। এটি অবৈধ। এজন্য চসিকের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। রোববার (আজ) থেকে এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×