নড়িয়ায় পদ্মায় তীব্র ভাঙন

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অব্যাহত পদ্মা নদীর ভাঙনে গত দু’দিনে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজার ও বাসতলা বাজার এলাকায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৩০টি বসতবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও পানের বরজ, একটি কলাবাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে নড়িয়া উপজেলার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৬ শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তেই নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নতুন ভবনটি বিলীন হলেও পুরনো ভবনটিও বিলীনের পথে। মারাত্মক ভাঙনের মুখে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পদ্মার তীরে ভিড় করছে হাজারও উৎসুক জনতা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দাবি, দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক।

চরজুজিরা, মুলফৎগঞ্জ ও নড়িয়ায় ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার গত দু’দিনে পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনের সাধুর বাজারের হযরত বেলাল (রা.) জামে মসজিদ, বাসতলা এলাকায় নজরুল ইসলাম নজু ঢালী, কাদের ঢালী, মো. ফিরোজ, গনি বেপারি, সোবাহান মাল, সাগর দেওয়ান, জমিস খান, রফিক ফালী, জামাল বেপারীসহ ৩০টি বসতবাড়ি গনি বেপারীর পানের বরজ, ফিরোজ মিয়ার একটি কলাবাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত দু’মাসে নড়িয়া উপজেলার দেওয়ান ক্লিনিক, রওশনারা শপিংমল, হেলথ কেয়ার ক্লিনিক, গাজী কালুর বিলিং, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ছয় শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ওয়াপদা বাজার সাধুর বাজারের কমপক্ষে ২০০/২৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো মুহূর্তেই নড়িয়া উপজেলা পুরাতন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভবনটিও বিলীনের পথে। মারাত্মক ভাঙনের মুখে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হওয়ায় কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বাসতলা এলাকার কাদের ঢালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর, জমিজমা হারিয়ে সবকিছু নদীতে চলে গেছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

চরজুজিরা এলাকার জামাল বেপারি বলেন, ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে আমরা ঘরের মালামাল পর্যন্ত সরাতে পারেনি। তার আগেই সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে আমাদের উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা ও স্থাপনা বিলীন করে নিয়েছে। সোমবার বিকালে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও বিলীন হয়ে গেল। এ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা হবে। এটা সমাধানের জন্য আমরা শিগগিরই বিকল্প ব্যবস্থা নেব।

সিভিল সার্জন ডাক্তার খলিলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হওয়ায় প্রতিদিন ২০ জন লোক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হাসপাতাল চালু রাখব। পরে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter