চৌগাছায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি

  যশোর ব্যুরো ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারী শিক্ষকের সন্তান নেই, তবুও ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে দিব্যি মাসের পর মাস শিক্ষা সহায়তা ভাতা তুলছেন। তথ্য গোপন করে টাইম স্কেলের বার্ষিক বাড়তি ইনক্রিমেন্ট সুবিধাও নিচ্ছেন অনেকে। যদিও এসব সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা কর্মকর্তার যাচাই-বাছাই ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের সহায়তায় চলছে অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসব। ওই কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের দেয়া ল্যাপটপ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষাসপ্তাহ পালন উপলক্ষে শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেলায়েত হোসেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার উত্তর মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (নতুন জাতীয়করণ) কর্মরত সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ। খাতা কলমে তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক। তার সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি সেই অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিয়েই এ সুবিধা ভোগ করছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা হারে শিক্ষা সহায়তা ভাতা তুলছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যাচাই ছাড়া এ সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। তিনিই এ অনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল ওই শিক্ষকের কোনো সন্তান নেই। মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের গ্রামের বাড়ি চৌগাছার টেংগুরপুরে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে প্রতিবেদক। শিক্ষকের এক নিকট আত্মীয় জানান, হারুন অর রশিদ আগের দুই স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তৃতীয় স্ত্রীরও কোনো সন্তান নেই। ওই দম্পতি নিঃসন্তান। জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, আমার ভাইয়ের মেয়েকে নিজের সন্তান হিসেবে মানুষ করছি। সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তার কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়েছিলাম। সেই হিসেবে শিক্ষা সহায়তা ভাতা পাই। এটা অন্যায় হলে আর নেব না। হারুন অর রশিদ দাবি করেন, শুধু তিনি একা নন, আরও অনেক শিক্ষকের সন্তান না থাকলেও, তারা শিক্ষা সহায়তা ভাতা পাচ্ছেন। এদিকে বকশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (নতুন জাতীয়করণ) সহকারী শিক্ষক জয়নুর রহমান টাইম স্কেলে বার্ষিক একটি ইনক্রিমেন্ট বেশি সুবিধা নিচ্ছেন। তিন বছর ধরে এ অনিয়ম করলেও দেখার যেন কেউ নেই। সর্বশেষ জুন মাসের বেতনের সঙ্গেও বাড়তি ইনক্রিমেন্টের টাকা পেয়েছেন। তার সার্ভিসবুক ও বেতন শিট যাচাই করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বেশি উত্তোলনের প্রমাণও মিলেছে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বেশি নিচ্ছেন। জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক জয়নুর রহমান বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিসের ভুলে একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বেশি পাচ্ছি। এই ভুল শুধু আমার নয়, খোঁজ নিলে আরও অনেকের আছে। তারাও বাড়তি ইনক্রিমেন্ট সুবিধা নিচ্ছে। যেহেতু ভুল হয়েছে বুঝতে পারছি, সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে দ্রুত সংশোধন করে নেব। শুধু শিক্ষা সহায়তা কিংবা বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদানে দুর্নীতিতে সীমাবদ্ধ নেই চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ২০১৫ সাল থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব পালন করছেন বেলায়েত হোসেন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে শিক্ষা অফিস। খোদ ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে চৌগাছা উপজেলার ১১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পিইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। সেই তালিকায় নাম ছিল রানিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক আশরাফুন্নেছার স্বাক্ষর নেয়া হলেও ল্যাপটপ দেয়া হয়নি। ওই ল্যাপটপ শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ে নিয়েছেন। সেটি তার ছেলে ব্যবহার করেন। জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) বেলায়েত হোসেন বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই শিক্ষা সহায়তা ভাতা ছাড় করা হয়। হারুন অর রশিদের সন্তান নেই। তবুও ভাতা তুলছে অভিযোগ পেলাম, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া বাড়তি ইনক্রিমেন্ট ভোগ করায় জয়নুরকে টাকা ফেরত দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১১৭টি স্কুলে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। রানিয়ালি স্কুলকেও ল্যাপটপ দেয়া হয়েছে। আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া শিক্ষাসপ্তাহে কোনো চাঁদাবাজি করা হয়নি। ক্লাস্টারভিত্তিক শিক্ষকরা চাঁদা তুলে শিক্ষাসপ্তাহের অনুষ্ঠান করেছে। কারও সঙ্গে জোর করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter