কাশিয়ানীতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২

গরিবের ঘরেও লুটপাট

কাজ সম্পন্ন না করে টাকা উত্তোলন

  লিয়াকত হোসেন লিংকন, কাশিয়ানী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাশিয়ানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘরগুলোতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের। অপর দিকে অধিকাংশ সুবিধাভোগীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে কাশিয়ানী উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৭১টি ঘরের জন্য চার কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের জন দেয়া হয় এক লাখ টাকা করে। উপজেলার তিন ইউনিয়নের প্রতিটিতে গড়ে ১৫৭টি করে ঘর নির্মাণ করা হবে। কাজের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হলেও এখনও কোনো ইউনিয়নে নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

তবে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে তিন জুনের মধ্যে চার কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করে ইউএনও তা নিজের হাতে রেখেছেন। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কাজ চলছে উপজেলার কুসুমদিয়া ইউনিয়নে এবং কোনো কোনো সুবিধাভোগীর কাজ এখন পর্যন্ত শুরুই হয়নি। আবার কোনোটির মাত্র শুরু হয়েছে বা করবেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও দালাল চক্র, ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নীতিমালা, নকশা ও সিডিউল ছাড়া। নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার, একই পরিবারে দু’টি ঘর দেয়া, রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার, কাজ সম্পন্ন না করে বিল উত্তোলন, দরিদ্র মানুষের ওপর নির্মাণসামগ্রী পরিবহন খরচ চাপিয়ে দেয়া। সব মিলে কাশিয়ানী উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পে ঘর নির্মাণে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব।

প্রকল্প নীতিমালায় ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পিআইসি কমিটি গঠন করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কাজটি করার কথা। প্রকল্পের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি ইউএনও, সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ৩০ জুনের মধ্যে প্ল্যান, ডিজাইন ও প্রাক্কলন মোতাবেক গুণগত মান বজায় রেখে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার কুসুমদিয়া ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ১৭৫ বর্গফুটের ঘরর নির্মাণকাজ করছেন কাঠমিস্ত্রি মারুফ মোল্লা, বাদল মোল্লাসহ চারজন। তাদের কাছে কাঠের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, চম্বল কাঠ দিয়ে ঘরের (আড়া, বাতা, আঠন) কাজ হচ্ছে। প্রকল্পের নীতিমালায় জানালায় লোহার রড ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের সিক।

টিনে করা হয়েছে অভিনব প্রতারণা। প্রতিটি টিনের গায়ে ঘষে টিনের নাম্বার পরিবর্তন করে করা হয়েছে ৩০০ এমএম পরিবর্তে ৩৬০ এমএম। ২ ঘষে তুলে স্থায়ী মার্কার কলম দিয়ে হাতে ৬ লিখে দিয়েছেন। অর্থাৎ ৩২০ মিলির পরিবর্তে ৩৬০ করা হয়েছে।

উন্মুক্ত ক্রয় পদ্ধতিতে ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ঘর ও ল্যাট্রিন নির্মাণে ২১টি পিলার দেয়ার কথা। দেয়া হচ্ছে ১২ ফুটের পরিবর্তে ১০ ফুট এবং ১০ ফুটের পরিবর্তে ৮ ফুট।

কুসুমদিয়া গ্রামের নিজামুল কাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ঘর পেতে আমি মো. সৈয়দ মেম্বারকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। ঘর দেয়ার জন্য টাকা নেয়ার ব্যাপারে মহিন মুন্সীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। হিসাব-কিতাব করে বলতে পারব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, বরাদ্দকৃত ঘর অক্টোবর মাসের মধ্যে হস্তান্তর করব। আর সঠিক নিয়মে কাজ হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, কে বা কারা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন তা আমরা অবগত নই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter