লোহাগড়ায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ

  নড়াইল প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নড়াইলের লোহাগড়ায় অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংক লোহাগড়া বাজার শাখা থেকে সুবিধাভোগীরা টাকা নিয়ে ফেরার সময় সাংবাদিকদের কাছে ওইসব ব্যক্তিদের এ অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের লোহাগড়া শাখার ক্যাশিয়ার শেখ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, ইউপি সদস্য মোহাম্মাদ মোল্লা, শিবানী রানী বিশ্বাস, মোস্তাক আহম্মদ নাইসসহ বেশ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মোট ১০৮ জনকে অগ্রণী ব্যাংক লোহাগড়া বাজার শাখা থেকে শুক্রবার বন্ধের দিন টাকা বিতরণ করা হয়। এ সময় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৮ হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অগ্রণী ব্যাংকের লোহাগড়া শাখা থেকে টাকা দেয়া শুরু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে সুবিধাভোগীদের চেক বইয়ের পাতায় কৌশলে টিপসই বা স্বাক্ষর নিয়ে প্রত্যেকের কাছে থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা করে কেটে নেন।

ওই ইউনিয়নের রায় গ্রামের রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ বাগচি, অরুনা শাখারিসহ সুবিধাভোগীরা জানান, বয়স্ক ও বিধবাদের ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৫শ’ টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের ৮ হাজার ৪শ’ টাকার স্থলে দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ৪শ’ টাকা। তারা আরও জানান, টাকা কেটে নেয়ার বিষয়টি ফাঁস করে দিলে পরে তাদের ভাতা তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হবে এই মর্মে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা হুমকি দেন।

নোয়াগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, ইউপি সদস্য মোহাম্মাদ মোল্লা ও ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলম টাকা কম দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও অপ-প্রচারমাত্র।’

একই বিষয় লোহাগড়া বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেশি হয়ায় বন্ধের দিনে ভাতার টাকা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউএনও মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, ‘টাকা কেটে নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×