সখীপুর সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

চিকিৎসকের দায়িত্বে ফার্মাসিস্ট

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

সখীপুর সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন ফার্মাসিস্ট ওষুধ দিচ্ছেন, চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঝাড়–দারের কাজও তিনিই করে যাচ্ছেন। আর এ অবস্থায় এখন ফার্মাসিস্টকে সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০ সালে স্থাপিত ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঁচটি পদ রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমবিবিএস) পদে কাগজে-কলমে অপু সাহা নামের একজন থাকলেও তিনি বেশির ভাগ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।

আর উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পদে থাকা গোলশান নাহার কণা চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেষণে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। নিয়মের তোয়াক্কা না করে তিনি জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সহায়তায় প্রেষণে চলে গেছেন।

এর বাইরে ওখানে মিড ওয়াইফ পদে অঞ্জনা বালা মণ্ডল নামে একজন রয়েছেন। অন্যদিকে এমএলএসএস পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে বর্তমানে উত্তম কুমার নামের একজন ফার্মাসিস্ট নিজেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

রোববার সকালে ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, উত্তম কুমার কেন্দ্রের তালা খুলে ঝাড়ু হাতে নিয়ে মেঝে পরিষ্কার করছেন। কিছুক্ষণ পরই সেখানে আসেন চাঁন মাসুদ নামের এক প্রবীণ রোগী।

চাঁন মাসুদের বাড়ি পৌরসভার গড়গোবিন্দপুর এলাকায়। তিনি গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন। চাঁন মাসুদকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বিদায় করলেন উত্তম। এর কিছুক্ষণ পর আসেন রমিছা আক্তার। মাথাঘোরা সমস্যা নিয়ে এলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্র না থাকায় তাকে ফিরিয়ে দেয়া হল।

চাঁন মাসুদ বলেন, ‘উত্তম স্যারই আমাদের ওষুধ দেয়। এখানে ভালো কোনো ডাক্তার নাই। রোগ জটিল অইলে ওনি আমাগো উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বলেন।

ফার্মাসিস্ট উত্তম কুমার বলেন, প্রতিদিন তাকেই ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী দেখতে হয়। এর বাইরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ অন্যান্য কাজও করতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেষণে যাওয়া উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা গোলশান নাহার কণা মুঠোফোনে বলেন, আমার বাড়ি বাসাইল উপজেলায়। আমি গর্ভবতী থাকায় প্রেষণ সুবিধা নিয়েছি বলে ফোন কেটে দেন।

মেডিকেল অফিসার অপু সাহা বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও সময়-সুযোগ পেলে আমি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া প্রেষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।