অপরিচ্ছন্নতা থেকে মিলছে না মুক্তি

আরামবাগ-ফকিরাপুলে তিন হাজার ছাপাখানার উচ্ছিষ্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিচ্ছন্নতা

অপরিচ্ছন্নতা ও দূষণ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেননি নগরীর আরামবাগ-ফকিরাপুল এলাকার বাসিন্দারা। পানির সংকট কিছুটা কমলেও গ্যাস সংকট ও ছাপাখানার উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় নাকাল এলাকাবাসী।

আবাসিক এলাকা হলেও বর্তমানে এ এলাকা ছাপাখানা এরিয়া বলেই অধিক পরিচিত। আরামবাগ-ফকিরাপুলজুড়ে কমবেশি ৩০০০-এর মতো ছাপাখানা রয়েছে। সেই সঙ্গে মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দোকানও রয়েছে অনেক। এসব ছাপাখানার উচ্ছিষ্ট কাগজের বর্জ্য পুরো এলাকার রাস্তায় সব সময়ই বিদ্যমান থাকে। ঘিঞ্জি গলিপথে ছাপাখানার মাল পরিবহনে ভ্যানগাড়িগুলো এলাকাবাসীর জন্য সীমাহীন যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে।

আরামবাগে ৩৫ বছর ধরে বসবাসকারী জাহিদুল ইসলাম মেজর দুঃখ নিয়ে বলেন, সকাল না হতেই মানুষ আর ভ্যানগাড়িতে সয়লাব হয়ে যায় আরামবাগ এলাকা। চলে একেবারে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ভ্যানগাড়ির জন্য আমাদের স্বাভাবিক জীবন বলতে কিছুই থাকে না। সকালে বাজার করতে গেলে কখনও কখনও ভ্যানগাড়ির চাপে ঘণ্টা পেরিয়ে যায় বাসায় ফিরতে। রয়েছে গ্যাস সংকট। এতে রান্নার কাজ সারতে বিকাল হয়ে যায়। এ এলাকা থেকে ছাপাখানা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া খুব জরুরি।

সরেজমিন দেখা যায়, আরামবাগ-ফকিরাপুলের ৫টি স্কুলে অন্তত ২০০০-এর মতো ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে ছাপাখানার শব্দদূষণ শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করছে। আরামবাগ স্কুল গলির দীর্ঘ ৮ বছরের পানির সংকট ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদের হস্তক্ষেপে দূর হলেও বক্স কালভার্ট ও কিউট গলির পানি সংকট দূরীকরণে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব সংলগ্ন পানির পাম্পটি সচল করা জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল বলেন, রয়াল একাডেমি সংলগ্ন পানির পাম্পটি সংস্কার করায় আরামবাগ স্কুল সংলগ্ন অন্তত ২০-২৫টি বাড়ির দীর্ঘ ১০ বছরের পানির সংকট দূর হয়েছে। যদি মেরিনার ইয়াংস ক্লাব সংলগ্ন পানির পাম্পটিও সংস্কার করা হয় তবে আরামবাগ মসজিদ, কিউট গলি ও বক্স কালভার্টের আশপাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দারা পানির সংকট থেকে মুক্তি পেতেন। আশা করি, কাউন্সিলর বিষয়টি ব্যবস্থা করবেন।

ফকিরাপুল বাজার ও আলিগড় হাউসের সামনে সিটি কর্পোরেশনের বড় ডাস্টবিন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এলাকাবাসীর। আলিগড় হাউসের রাস্তায় বিআইডব্লিউটিএ’র (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ) প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। একই সমান্তরালে মতিঝিল থানা ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিসিক ভবন অবস্থিত। এ গলির মাথায় এমন বড় ডাস্টবিন চলাচলের জন্য খুবই সমস্যা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

আরামবাগ ক্লাবপাড়া হলেও শিশু-কিশোরদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ। ঝিল ভরাট করা বালুর মাঠটি একসময় এলাকার শিশু-কিশোরদের চাহিদা পূরণ করলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। তাই শিশুদের একটি খেলার মাঠ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে।

এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রায় সুশীল বলেন, আমাদের এ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ তিন বছরে নিরাপত্তা কর্মী, প্রতিটি গলিমুখে গেট ও পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় চাঁদাবাজি ও মাদক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আমরা খুবই আশাবাদী, তিনি বর্তমান সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান করবেন।

ডিএসসিসি ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ চিকিৎসাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এলাকাবাসীর সেবা প্রদানে কতটা আন্তরিক তা এ এলাকার মানুষ দেখেছেন। এ এলাকা থেকে প্রেস সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি খুবই ইচ্ছুক। তবে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা এ ব্যবসা একদিনে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। এলাকার ভবন মালিকদেরও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একটি পানির পাম্প সংস্কার করে সচল করা হয়েছে। মেরিনার ইয়াংস ক্লাব সংলগ্ন পানির পাম্পটিও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। শুকনো মৌসুমে এখন কিছু করা সম্ভব নয়। তবে এর ভিন্ন বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আরামবাগের প্রেসগুলো ২০ বছরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এ প্রেস আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কেউ সিটি কর্পোরেশনে করেননি। তবে অভিযোগ না এলেও আমি বিষয়টি নিয়ে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে বসে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বলব- সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×