ট্যানারি স্থানান্তর: হাজারীবাগে উন্নয়নের ছোঁয়া

  লালবাগ প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাজারীবাগে উন্নয়নের ছোঁয়া
ছবি: সংগৃহীত

ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে হাজারীবাগে। এলাকার গজমহল, তুলাতলা, তল্লাবাগ, চরকগাটা, বৌবাজার, ঢাকা ট্যানারি মোড়, জিগাতলা ট্যানারি মোড় ঘুরে দেখা যায়, এখানে গড়ে উঠছে ছোট-মাঝারি ও বৃহৎ আকারের কল-কারখানা।

সেই সঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি বড় বড় নান্দনিক ভবন নির্মাণ করছে এখানে। বর্তমানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংকট নেই বলে বাসাভাড়া নেয়ার জন্য ভাড়াটিয়ারা হাজারীবাগে ভিড় করছেন।

এখানে উন্নতমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিনি স্টেডিয়াম, আধুনিক মানের খেলার মাঠ, পার্ক, পাঠাগার, ব্যায়ামাগারসহ পর্যটন স্পট নির্মাণের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ যেসব পণ্য বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তার মধ্যে অন্যতম হল চামড়া শিল্প। প্রতি বছর চামড়া রফতানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বাংলাদেশ। ১৯৫০ সালে সর্বপ্রথম পাকিস্তানিরা পুরান ঢাকার হাজারীবাগে ট্যানারি শিল্প গড়ে তোলে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালিরা একের পর এক ছোট-বড় মাঝারি সব মিলে প্রায় দুইশ’ ট্যানারি গড়ে তোলেন এই হাজারীবাগে।

১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম হাজারীবাগের স্থানীয় লোকজন ট্যানারি স্থানান্তরের আওয়াজ তোলেন। কারণ ট্যানারিতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, পানি, ও গ্যাসের প্রয়োজন হতো। এর ফলে হাজারীবাগে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিত। স্থানীয় লোকজন ঠিকমতো গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ পেত না।

পাশাপাশি ট্যানারিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যালে বাড়িঘরসহ স্টিলের আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়ে যেত। ২০১৮ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কথা ভেবে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করে।

হাজারীবাগের বৌবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, ট্যানারি থাকাকালীন এখানে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিত। আর বাতাসে পচা দুর্গন্ধ ও শব্দদূষণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। এখন ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেয়ার পর থেকে আমরা অনেক শান্তিতে আছি।

হাজারীবাগের ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সেলিম বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরে সুবিধা-অসুবিধা দুটোই হয়েছে। হাজারীবাগকে নিয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। হাজারীবাগকে একটি আধুনিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

একটি আধুনিক আবাসিক এলাকা হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার- সবই থাকবে হাজারীবাগে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×