৪৪ নম্বর ওয়ার্ড: জলাবদ্ধতা দূরই প্রধান অঙ্গীকার

  সৈয়দ আমানত আলী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৪৪ নম্বর ওয়ার্ড: জলাবদ্ধতা দূরই প্রধান অঙ্গীকার
ফাইল ছবি

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবসম্পৃক্ত ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

অবহেলা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সড়কের যে বেহালদশা তাতে কোনোভাবে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। সামান্য বৃষ্টি হলেই দিনের পর দিন সড়কে জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।

ডিএনসিসির ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের উত্তরখান থানার সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন (ঘুড়ি) ও সাবেক বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মো. শফিকুল (শফিক) (ঠেলা গাড়ি) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। এলাকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে।

সড়কে যাতে ভারী গাড়ি চলাচল করতে পারে সেজন্য সড়ক মজবুতভাবে করা হবে। পানির জন্য পানির পাম্প ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, যেহেতু এ এলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত সেহেতু বাজেট কম থাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। নতুন যিনি এ ওয়ার্ডের হাল ধরবেন তিনি সমস্যা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করবেন বলে আশা এ এলাকার ভোটারদের। ভোটাররা বলছেন এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ নিু আয়ের।

নিচু এলাকা হওয়ায় দ্রুত পানি সরে যেতে পারে না। নতুন যিনি এ ওয়ার্ডের হাল ধরবেন তিনি যেন এলাকার উন্নয়নের দিকে খেয়াল রাখবেন সেটাই এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশা।

ডিএনসিসি ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড আমাইনা, বড়বাড়ী, চামুরখান, কাঁচকুড়া, স্নানঘাটা, ভাটুরিয়া, পলাশিয়া, ছোট পলাশিয়া, পোড়াদিয়া, রাতুটি, ভারারদি, আক্তারটেক, বাওথার, বেতুলী, করিমেরবাগ, দোবাদিয়া নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে।

এলাকার ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার। সর্বত্রই খানা-খন্দ আর জলাবদ্ধতা। এ এলাকায় অবৈধভাবে চলাচল করছে কয়েকশ’ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা ছোট হওয়ায় মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

স্যুয়ারেজের লাইন বেশিরভাগ এলাকায় নেই, যার কারণে সারা বছর জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল, যাতে মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে।

সড়কের যে বেহালদশা তাতে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে পারে না। এতে বড় ধরনের বিপদ ঘটে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এ ওয়ার্ডে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো পানির পাম্প। নেই কোনো খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, কবরস্থান ও কমিউনিটি সেন্টার। ভারী গাড়ি চলাচলে সড়কের একেবারে নাজুক অবস্থার তৈরি হয়েছে। নেই কোনো সরকারি হাসপাতাল। কোনো ধরনের বড় সমস্যা হলে উত্তরা এলাকায় নিয়ে যেতে হয়।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শফিকুল (শফিক) বলেন, আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করব। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। তবে এখন আমাদের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়ব।

খালগুলোকে পুনরায় খনন করে এখান দিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আল্লাহ আমার কোনো অভাব রাখেন নাই। আমি শুধু জনগণের সেবা করতে চাই। আমি একজন ব্যবসায়ী। এ এলাকার অনেক বেকার যুবককে আমি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এ ওয়ার্ডের সমস্যা জনগণকে পাশে নিয়েই সমাধান করা হবে।

প্রার্থী কামাল উদ্দিন বলেন, আমি এ এলাকায় ১৬ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এলাকা অনেক বড়, অথচ বাজেট আসে কম।

জলাবদ্ধতা দূর ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার জন্য যে পরিমাণ বাজেট দরকার তা আমরা পাইনি। এ সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচলের জন্য সড়কের বেহাল অবস্থা। আমি যদি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হই এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে জনগণকে উপহার দেব।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×