৬৩ নম্বর ওয়ার্ড: মাদক সন্ত্রাস জলাবদ্ধতা নিরসন প্রধান অঙ্গীকার

  আহমদুল হাসান আশিক ও খোরশেদ আলম শিকদার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসি
ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসম্পৃক্ত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রধান সমস্যা মাদক, সন্ত্রাস, জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব। আর এ সমস্যাগুলো নিরসনের অঙ্গীকার করছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এদিকে অধিকাংশ ভোটার তাদের নিজস্ব এলাকার ভোটারদেরই ভোট দেয়ার কথা বলেন।

৬৩ নম্বর ওয়ার্ড যাত্রাবাড়ী থানায় অবস্থিত। সাবেক মাতুয়াইল ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরগাঁও, মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাতুয়াইল মাঝপাড়া, মাতুয়াইল উত্তরপাড়া, মাতুয়াইল শরীফপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ২৬৫। পুরষ ভোটার ১৭ হাজার ৬৮, নারী ভোটার ১৭ হাজার ১৯৭ জন। ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন।

প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যনির্বাহী সদস্য মাতুয়াইল সুলতানা কামাল স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা মো. শফিকুল ইসলাম খান দিলু (ট্রাক্টর), মাতুয়াইল ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলী আহম্মদ (লাটিম), বৃহত্তর মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী সুলতানা কামাল স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মৃধা (মুকুল) (ঠেলাগাড়ি), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. হাসেম মোল্লা (হাসু) (রেডিও), মো. শুক্কুর আলী (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), মো. হাবিবুল ইসলাম (ঘুড়ি)।

মাতুয়াইল ইউনিয়নকে ডিএসসিসির আওতাভুক্ত করে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভাগ করা হলেও এখনও সেখানে পৌঁছেনি নগর জীবনের কোনো সুবিধা। জলাবদ্ধতা, ভাঙা ও সরু রাস্তা, মাদকের প্রাদুর্ভাব, ময়লা ফেলানোর নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় অতিষ্ঠ বাসিন্দারা।

ওয়ার্ডের অধিকাংশ স্থানে রয়েছে খোলা শৌচাগার, ডোবা, নর্দমার দুর্গন্ধময় পানি, অপরিচ্ছন্ন এলাকা হওয়ায় মশা-মাছির উপদ্রবও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব, অনেক স্থানে হয়নি সড়ক, নেই খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যা ঘনাতেই অন্ধকারে ডুবে যায় এলাকা।

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব রয়েছে। অপরিকল্পিত ঘিঞ্জি পরিবেশে গাদাগাদি করে নির্মাণ করা অসংখ্য বাড়িঘরসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত এ ওয়ার্ডের মানুষ। ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ সিস্টেম বলে কিছু নেই।

এ কারণে শুষ্ক মৌসুমেও উন্মুক্ত ড্রেন থেকে ময়লার পানি উপচে পড়ছে মূল সড়কে। আর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় চরমভাবে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান দিলু যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক সমাজ গঠনে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণের কাছে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি মাতুয়াইল, কাজলা, শেখদিসহ নবগঠিত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আমার বিগত দিনের কাজ মূল্যায়ন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন।

মো. আলী আহম্মদ যুগান্তরকে বলেন, শৈশবকাল থেকেই আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি। পরে এলাকার সর্দার হিসেবে রাস্তাঘাট ও সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ করছি।

এছাড়া, অসহায়, গরিব ও দুখী মানুষের ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কমিউনিটি সেন্টার, মাদক নির্র্মূলসহ এলাকার অসমাপ্ত কাজ করে একটি আদর্শ ওয়ার্ড উপহার দেব।

সিদ্দিকুর রহমান মৃধা (মুকুল) যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, পঞ্চায়েত কমিটি, সমাজের উন্নয়ন কমিটিতে থেকে বিগত দিনে মানুষের সেবা করে আসছি। এলাকাবাসী ব্যক্তি ও পারিবারিকভাবে আমাকে পছন্দ করে।

ফলে আমার ইচ্ছার পাশাপাশি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ইচ্ছায় কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন, ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করব। প্রশাসনকে সহায়তা করে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটি ডিজিটাল ওয়ার্ড উপহার দেব।

মো. হাসেম মোল্লা (হাসু) যুগান্তরকে বলেন, মানুষের কল্যাণে সামাজিক বিভিন্ন কাজে সেবা দিয়ে আসছি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ, রাস্তাঘাট মেরামত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সরকারি কমিউনিটি সেন্টার, সরকারি হাসপাতাল নির্মাণসহ একটি আদর্শ ওয়ার্ড উপহার দেব।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×