৪৬ নম্বর ওয়ার্ড: জলাবদ্ধতা দূর করতে চান প্রার্থীরা

দূষিত পানিতে মশার বংশ বিস্তার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএনসিসি
ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবসম্পৃক্ত ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও মানছেন জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রধান চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। এছাড়া আধুনিক, পরিকল্পিত ও শিক্ষাবান্ধব ওয়ার্ড উপহার দিতে চান তারা।

মাদক নির্মূল ও নিরাপত্তার জন্য এলাকার মোড়ে মোড়ে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট নিরসনেও ভূমিকা রাখবেন বলে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা।

আসন্ন নির্বাচনে ডিএনসিসির ৪৬ নং ওয়ার্ড থেকে ১০ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে লড়বেন।

তারা হলেন, আহম্মদ আলী (রেডিও), মো. সাইদুর রহমান সরকার (ঝুড়ি), জাকির হোসেন (ঠেলাগাড়ি), মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ (টিফিন ক্যারিয়ার), সাইফুল ইসলাম জুয়েল (এয়ারকন্ডিশন), খালেদ মোশারফ পলাশ (লাটিম), মো. সোবাহান চৌধুরী (ট্রাক্টর), মো. ওয়ারেস হোসেন খান (ঘুড়ি), মো. নুরুন্নবী (কুমড়া), মো. সেলিম (র‌্যাকেট)।

ডিএনসিসির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বাবুরপাড়া, বড়বাগ, ওজাপাড়া, রাজাবাড়ী, মুন্ডা, পুলারটেক, ভাটুলিয়া, মাউছাইদ, বাদুরীপাড়া, চানপাড়া, ফৌজারবাড়ী, গোবিন্দপুর, খঞ্জুরদিয়া, কমুদখোলা, মৈনারটেক, নিনিরটেক, নোয়াখোলা, সাওরারটেক ও উজানপুর নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে ৯০ হাজার মানুষ বসবাস করে। যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২৪ হাজার।

সামান্য বৃষ্টিতেই এ ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকে হাঁটুপানি। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার করণে নোংরা-ময়লাযুক্ত পানিও সবসময় চোখে পড়ে। জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে।

আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সরু গলিপথ ও পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় মাদকসেবীদের গা-ঢাকা দিতে কোনো সমস্যা হয় না। সড়ক বেহাল হওয়ায় হেঁটেও চলাচল করাও দায়।

ড্রেনেজের যে অবস্থা তা দিয়ে এ ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ এলাকায় চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাই একমাত্র বাহন। রাস্তা ছোট হওয়ায় প্রতিদিনই যানজট থাকে ওয়ার্ডজুড়ে।

এ কারণে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে ও অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এটি আবাসিক এলাকা হলেও প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে গার্মেন্ট ও শিল্প-কারখানা। আছে গ্যাসের তীব্র সংকট। মাদকের ভয়াল ছোবলে যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

কাউন্সিল প্রার্থী আহম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, প্রথম কথা আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমি এলাকার মৈনারটেক হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। আমি আসার পর সবখানে নিজস্ব খরচে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। আমার পরিকল্পনা আছে

অবশিষ্ট এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে এলাকাবাসীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো খনন করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করব।

সেই সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন, স্যুয়ারেজ লাইন আধুনিক করা, আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও নাগরিক সুবিধার জন্য যা কিছু করতে হয়, সবই আমি করার চেষ্টা করব।

মো. সাইদুর রহমান সরকার বলেন, আমি একটি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়তে চাই। যাতে তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে এ ওয়ার্ডের সড়ক প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করব।

জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাব। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ ওয়ার্ড জনগণকে উপহার দেব।

মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন করব। সড়ক প্রশস্তকরণ ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর হস্তে মাদক দমন করব।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×