৭৩ নম্বর ওয়ার্ড: পরিবেশবান্ধব ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় প্রার্থীদের

বেশিরভাগ রাস্তা ভাঙাচোরা ও অপ্রশস্ত

  তেজগাঁও প্রতিনিধি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৭৩ নম্বর ওয়ার্ড: পরিবেশবান্ধব ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় প্রার্থীদের
ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসৃষ্ট ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়তে চান কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মাদকমুক্ত ওয়ার্ডও গড়তে চান তারা। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ সবার মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

এছাড়াও এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট সংস্কার, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা তৈরি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবস্থা, নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা ও অবৈধ দখলসহ সব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করাও তাদের মূল লক্ষ্য।

দক্ষিণগাঁও ইউনিয়ন ভেঙে ডিএসসিসির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়। এ ওয়ার্ডে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলের কারণে বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। দু-একটি এলাকায় আধুনিকতার ছোঁয়া ও বহুতল ভবন থাকলেও বাকি এলাকাগুলোতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলই রয়ে গেছে। রয়েছে কাঁচা রাস্তা।

বেশিরভাগ রাস্তাই ভাঙাচোরা ও অপ্রশস্ত। নেই যথাযোগ্য স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা। বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাসের অভাব রয়েছে। এছাড়াও শিশু-কিশোরদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ, পার্ক কিংবা বিনোদন কেন্দ্র। সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য নেই কোনো কমিউনিটি সেন্টার, স্টেডিয়াম ও নেই পাঠাগার।

বহু বছরেও গড়ে ওঠেনি কোনো কলেজ, ডাকঘর, সরকারি হাসপাতাল অথবা কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

এছাড়াও অতিরিক্ত মশার উপদ্রব, কাঁচা ও সরু রাস্তা ও বর্ষায় জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ অধিবাসীরা। সব মিলে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে।

তবে প্রার্থীরা বলছেন, এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নাগরিকদের সব সুযোগ-সুবিধ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

নন্দিপাড়া বাজার, দক্ষিণগাঁও নয়াবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিণগাঁও পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণগাঁও, দক্ষিণগাঁও দাসপাড়া, দক্ষিণগাঁও ৬নং রোড, দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ, বেগুনবাড়ি, মানিকদিয়া, ভাইগদিয়া ও উত্তর মানিকদিয়া এলাকা নিয়ে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড।

এ ওয়ার্ডে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের বসবাস হলেও ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার। এ ওয়ার্ডে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা হলেন- দক্ষিণগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএস সোহরাওয়ার্দী (ঘুড়ি), দক্ষিণগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম (করাত), খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল হক (রেডিও), মো. ইব্রাহীম (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), দক্ষিণগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম (ঠেলাগাড়ি) ও আমিনুল ইসলাম চৌধুরী (লাটিম)।

এইচএম সোহরাওয়াদী বলেন, আমি দীর্ঘদিন এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের পাশে থেকে কাজ করে আসছি। ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড হয়েছে। এখানকার মানুষরা যদি আমাকে আবার তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে তাহলে আমার প্রধান কাজ হবে রাস্তাগুলো প্রসস্ত ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা উন্নত করা।

শিশু-কিশোরদের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্র ও একটি খেলার মাঠ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করা হবে। যাতে করে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চিকিৎসাসেবা নিতে পারে। এছাড়াও নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনেক পরিকল্পনাও রয়েছে।

জিউয়াউল হক বলেন, আমি বহু বছর ধরে রাজনীতি করছি। মানুষ রাজনীতি করে দু’ভাবে। একটি পেশা ও অন্যটি সেবা। আমি ছাত্রজীবন থেকেই জনগণের সেবা করে আসছি। আর তাদের জন্যই আমি কাউন্সিলর নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজই হবে এ ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করা।

জুয়ার আসর যেন না বসে সেই দিকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। যাতে ছেলেমেয়েরা আগামী দিনে শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। রাস্তাগুলো প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজের ব্যবস্থা করে সংস্কার করা হবে।

এছাড়াও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র এবং শরীরচর্চা কেন্দ্র করব। সোলাকিয়া ময়দানের মতো একটি ঈদগাহ মাঠ তৈরি করার ইচ্ছাও আছে।

মো. রেজাউল করিম বলেন, এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে আমার প্রধান কাজ হবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। নবসৃষ্ট এ ওয়ার্ডে নিু আয়ের মানুষের মাঝে নেশা ঢুকিয়ে দিচ্ছে এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী।

এ ওয়ার্ডে সরকারি স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি মাতৃসদন করতে চাই। আমি নির্বাচনে জয়ী হলে একটি উন্নয়ন কমিটি গঠন করব। যাতে এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধান করতে পারি। এলাকায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা নির্মাণ করতে চাই।

আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট খুবই সরু ও নিচু। পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমি কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা প্রশস্ত করব। খেলার মাঠ, স্কুল, কলেজ ও কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হবে।

এতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। এ ওয়ার্ডে নিু আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের জীবিকার জন্য সরকারি কাজের ব্যবস্থা করতে চাই। তাছাড়াও বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা ও ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই।

আর অবৈধ গ্যাসের লাইন, দখল ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেয়াই আমার লক্ষ্য।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×