ডেমরায় ধীরগতিতে উন্নয়নকাজ

বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া

ছবি: যুগান্তর

নগরীর ডেমরার উন্নয়ন কাজের ধীরগতিতে নাগরিক ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া চলমান উন্নয়নে ডিএনডির অভ্যন্তরের অধিকাংশ এলাকা আগের চেয়ে আরও বেশি নিচে পড়ে গেছে।

তাই আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সড়কগুলোয় বড় বড় গর্ত হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। এতে কর্দমাক্ত সড়কে চলা দায় হয়ে পড়ে। তাছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

জানা যায়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দের পর ডেমরার সারুলিয়া ও মাতুয়াইল ইউনিয়নে শুরু হয় উন্নয়ন কাজ। ইতিমধ্যে ডেমরায়ও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

সারুলিয়া এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সড়ক উন্নয়ন, সড়ক বাতি স্থাপন ও বিদ্যুতের খুুঁটি অপসারণসহ ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-ডিএসসিসি।

একইভাবে মাতুয়াইল ইউনিয়ন এলাকায় ১৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ঘোষণা করেন মেয়র সাঈদ খোকন।

ধীরগতিতে চলা সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। লাখো মানুষকে হেঁটে চলতে হচ্ছে দীর্ঘপথ।

এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মাতুয়াইল, সারুলিয়া ও ডেমরার ১০ লাখ মানুষ। রাস্তা খুঁড়ে মাটি স্তূপ করে রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে। অনেক জায়গায় পাইপ বসানো হলেও সেগুলো ভরাট করা হয়নি। কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রাস্তায় চলাচলের অবস্থা নেই।

তাই কাজের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দ্রুত কাজ শেষ হবে।

সারুলিয়ার হাজীনগর থেকে বড়ভাঙ্গা হয়ে কোদালদোওয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ঢালাই হয়েছে মাত্র আড়াইশ’ মিটার। সড়কটি ২০ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ১২ ফুট।

মধ্য হাজীনগর থেকে পশ্চিম হাজীনগরের রসুলনগর ক্যানেল পাড় পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ আধা কিলোমিটার ঢালাই হয়েছে।

রসুলনগর এলাকার সাবেক হাজী মোয়াজ্জেম উচ্চ বিদ্যালয়ের গলি থেকে বামৈল সীমানা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে ঢালাই বাদে শুধু পাইপ বসানো হয়েছে।

বামৈল ব্রিজ থেকে ছোট মুরগি ফার্ম পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে ঢালাই বাদে পাইপ বসানো হয়েছে প্রায় আধা কিলোমিটার। এভাবে ওই এলাকার শাখা রাস্তা ও অলিগলিসহ প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে শুধু পাইপ বসানো রয়েছে।

ডগাইর ফার্নিচার মোড় থেকে রুস্তম আলী স্কুল রোড পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কে শুধু ড্রেনেজ পাইপ বসানো হয়েছে। একইভাবে ডগাইর উত্তপাড়া, মধ্যপাড়া ও জেলেপাড়াসহ আড়াই কিলোমিটার সড়কে ধীরগতিতে চলছে উন্নয়ন কাজ।

ডেমরার সড়কগুলো সরু বলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে রাস্তার মধ্য দিয়ে। এখানে রাস্তার মাঝখানে খুঁড়ে সম্প্রতি বড় বড় পাইপ বসানো হচ্ছে।

সহকারী প্রকৌশলী (খিলগাঁও অঞ্চল-২) মো. পারভেজ রানা যুগান্তরকে বলেন, ডেমরায় বরাদ্দ প্রক্রিয়া শেষে মাত্র ১ মাস আগে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুতগতিতে চলছে। এখানকার উন্নয়ন কাজের সময় ধরা হয়েছে ৬ মাস। তাই নির্দিষ্ট সময়ে পরিকল্পিতভাবেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে উন্নয়ন কাজ চললে ভোগান্তি কিছুটা থাকবেই।

ডেমরার নলছাটা গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, জরুরি কাজে ডেমরা বাজার যেতে হলে বেশ কয়েক মাইল পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। উন্নয়ন কাজে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় এমনটা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে রাস্তায় চলাচল একবারে বন্ধ হয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে পারে না

ডিএসসিসির উপসহকারী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৫) সুদেপ কুমার বলেন, ডিএনডির অভ্যন্তরের উন্নয়নের লক্ষ্যে দেড় বছর আগে ডিএসসিসি একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই রাতে ঢালাই চলছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল।

তাছাড়া সুপরিকল্পিতভাবে বড় যে কোনো উন্নয়ন কাজে সময় লাগবেই। তবে ডেমরায় চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।