ডেমরার কায়েতপাড়া ও ঠুলঠুলিয়া

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল

যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া

ডেমরার কায়েতপাড়া ও ঠুলঠুলিয়া ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। ছবি: যুগান্তর

নগরীর ডেমরায় ঝুঁকিপূর্ণ দুটি সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ অধিবাসীরা। ডিএসসিসির ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কায়েতপাড়া ও ঠুলঠুলিয়া গ্রামে অবস্থিত ওই দুটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন পণ্য ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ চলাচল করেন।

বিকল্প রাস্তা না থাকায় অধিবাসীরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় বাসিন্দারা এ বিষয়ে নানা প্রশ্নও তুলছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নির্মিত এ দুটি সেতুর উভয় পাশের গার্ডারে বেশ কয়েক বছর ধরেই মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠুলঠুলিয়া সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, এমনকি একপাশের রেলিং একবারেই নেই।

শুধু রডগুলো কোনোমতে ঝুলে আছে। আরেক পাশেরও অর্ধেক রেলিং নেই। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলেই সেতু দুটি কাঁপতে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ।

এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে হাজারও এলাকাবাসীসহ হালকা-ভারি যানবাহন চলাচল করছে ওই সেতু দুটি দিয়ে।

আরও দেখা গেছে, মরণফাঁদে পরিণত হওয়া ব্রিজ দুটির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে তেলবাহী লরি, মালবাহী ট্রাক ও নসিমন-করিমন, সিএনজি, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন।

বালু নদের তীরে অসংখ্য তেলের দোকানে তেল সরবরাহকারী লরির নিত্যদিনের যাতায়াতের কারণে ব্রিজ দুটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক আগেই ওই দুটি সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

কায়েতপাড়ার বাউলের বাজার মন্দির সংলগ্ন ও ঠুলঠুলিয়া খালের ওপর ওই দুটি সেতু অন্তত ২০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই যে কোনো সময় ব্রিজ দুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিটি কর্পোরেশনসহ এলাকাবাসী। শিগগির সেতু দুটির পুনর্নির্মাণ জরুরি।

দুর্গাপুরের অধিবাসী প্রকাশ সরকার সুমন যুগান্তরকে বলেন, আমার বাবা বৃদ্ধ মানুষ। নানা প্রয়োজনে ঠুলঠুলিয়া ও কায়েতপাড়া বাউলের বাজার সেতু দিয়ে তাকে নিয়ে চলাচল করতে হয়। আমার বাবাসহ অন্য বয়স্করা সেতু দুটিতে চলতে ভয় পান। এ ছাড়া ঠুলঠুলিয়া সেতুর রেলিং না থাকায় ছোট ছোট শিশু ও শিক্ষার্থীরাও ভয় পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিএসসিসির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ এলাকা ছিল ডেমরা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। তাই বিষয়গুলো দেখত তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল কর্তৃপক্ষ। এ সেতু দুটি নিয়ে সাবেক ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে লিখিত আবেদনসহ ছবি পাঠালেও কোনো কাজ হয়নি।

ঠুলঠুলিয়া সেতুর ২শ’ গজ পশ্চিমে বিকল্প হিসেবে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ করা আছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় নতুন সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ওখানেও এ বিষয়ে লিখিত আবেদনসহ ছবি পাঠানো হয়েছে।

তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে পর্যবেক্ষণ শেষে এখানকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে শুধু ঠুলঠুলিয়া সেতুটি রয়েছে। কায়েতপাড়া সেতুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এলাকাবাসী বলছেন, কায়েতপাড়া হয়ে ঠুলঠুলিয়া আসতে হয় বলে ওই সেতুটির পুনর্নির্মাণ করা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ঠুলঠুলিয়া সেতুটি পুনর্নির্মাণ হবে জেনে এ বিষয়ে ৭০নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মো. আতিকুর রহমান আতিক যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে ডেমরায় সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

তাই পরিকল্পিতভাবে যদি সমন্বয়ভিত্তিক উন্নয়ন করা না হয় তাহলে পরবর্তী সময়ে অন্য উন্নয়ন কাজ করতে গেলে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যায় পড়তে হবে অধিবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের। তাই প্রয়োজনের দৃষ্টিকোণ থেকে কায়েতপাড়ার বাউলের বাজার সংলগ্ন সেতুটিকেও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাসাধ্য আলোচনা করব, যাতে এ সেতুটিও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সহকারী প্রকৌশলী (খিলগাঁও অঞ্চল-২) মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নগরীর ডেমরায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে শুধু ঠুলঠুলিয়া সেতুটি রয়েছে বলে দ্রুত এটির কাজ শুরু করা হবে।

তবে কায়েতপাড়া বাউলের বাজার সেতুটির বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে সে ক্ষেত্রে ভিন্ন বিষয় হতে পারে।