শতবর্ষী সিক্কাটুলী পুকুর

অগ্নিনির্বাপণ, জলাবদ্ধতা নিরসন বিনোদনসহ নানা কাজে আসছে

  খোরশেদ আলম শিকদার ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শতবর্ষী সিক্কাটুলী পুকুর
শতবর্ষী সিক্কাটুলী পুকুর। ছবি: যুগান্তর

পুরান ঢাকায় অবস্থিত সিক্কাটুলী পুকুর। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল থানার সিক্কাটুলীতে অবস্থিত এ প্রাচীনতম পুকুর। এটি ১২৪ বছরের পুরনো।

পুকুরে মাছ চাষ, সব বয়সী লোকদের গোসল, সাঁতারকাটা, ডুবাডুবি, হৈহোল্লর, নৌকা ভ্রমণ এলাকাটিকে মুখরিত করে তোলে। যেন রাজধানীর বুকে গ্রামীণ চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজের পানির চাহিদাও পূরণ করছে এ পুকুর।

এলাকার বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতা থেকেও রেহাই দেয় এ পুকুরটি। অগ্নিনির্বাপণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও রক্ষা করে চলেছে এটি। স্থানীয় সিক্কাটুলী মুসলিম যুব সংঘ ও পঞ্চায়েত কমিটি বাৎসরিক কর্মসূচির আওতায় পুকুরটিতে মাছের পোনা ছাড়ে। এ পোনামাছ বড় হলে তা এলাকাবাসীর মধ্যে বণ্টন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, সিক্কাটুলী পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও মুসলিম যুব সংঘের সভাপতি মীর মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ১৮৫৪ সালে নেয়ামত উল্লাহ নামের এক টুপি ব্যবসায়ী ছিলেন সিক্কাটুলীতে।

তার স্ত্রীর নাম ছিল বোচা বিবি। জনসাধারণের পানির কষ্ট লাঘবের জন্য বোচা বিবি তার দেনমোহরের টাকায় তখন নাজিরাবাজারসংলগ্ন সিক্কাটুলী পুকুরটি খনন করেন এবং এর পূর্বে একসঙ্গে খোদা মসজিদ স্থাপন করে দেন। বর্তমানে ওই মসজিদই নাজিরাবাজার বড় মসজিদ নামে পরিচিত।

এলাকার একাধিক সূত্র মতে, ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে ঢাকা মহানগরীর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান এডিসি সিরাজউদ্দৌলা পুকুরটির সংস্কার করেছিলেন।

তিনি সরকারি অর্থায়নে ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরটির চার পাশে বাঁধস্বরূপ ৩২ ইঞ্চি দেয়াল নির্মাণ ও এর গভীরতা বাড়ানোসহ বহুমুখী সংস্কার করেছিলেন।

১৯৮১-৮২ সালে তৎকালীন ঢাকা সিটি মেয়র আবুল হাসানাত পুকুরের দক্ষিণ পাশের পাড় সংস্কার করেন। দীর্ঘ সময় পুকুরটির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় এটি অযত্ন-অবহেলা ও ময়লা-আবর্জনায় প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল।

পরে এলাকাবাসী পুকুরটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে মেয়রের কাছে পুকুরটি সংস্কারের আবেদন জানানো হয়। কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন, সিক্কাটুলী মুসলিম যুব সংঘ ও পঞ্চায়েত কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে পুকুরটির সংস্কার কাজ করা হয়।

বর্তমানে পুকুরটিতে প্যাডেল বোটে করে বিনামূল্যে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধে জালি লাগানো হয়েছে। গোসলের জন্য ঘাট, চার পাশে সীমানা, মাটি খনন, সৌন্দর্য রক্ষার্থে পুকুর পাড়ে টবের মধ্যে গাছ, সিমেন্ট ও বালি দিয়ে তৈরি দোয়েল, হরিণ, মাছরাঙা স্থাপন করা হয়।

পুকুরটি সংস্কারের পর এলাকাবাসী ও শিশু-কিশোরদের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২ বছর পূর্বের সংস্কার এখন মলিন হয়ে গেছে। পুকুরের পানি শেওলাযুক্ত। সীমানা প্রাচীরের আস্তর খসে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন ও পুকুরের একাধিক দর্শনার্থী যুগান্তরকে বলেন, ২ বছর পূর্বে পুকুরটি সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর এলাকার পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। বিকাল হলে প্রতিদিন আসতাম পুকুর পাড়ে। পুকুরকে ঘিরে এলাকাটি সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

এলাকার শিশু-কিশোররা সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করে। তারা বিকাল হলেই নৌকায় ওঠার জন্য লাইন ধরে থাকে। শত বছরের পুরনো এ পুকুর এলাকার সাধারণ মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করে আসছে।

বিশেষ করে নাজিরাবাজার, হাজী ওসমান গনি রোড, আগাসাদেক রোড, আগামসি লেন, সাত রওজা, মাহুতটুলী, কায়েতটুলী, মুকিম বাজারসহ বংশাল এলাকার অধিকাংশ অধিবাসী এ পুকুরটির ওপর বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। তারা আরও বলেন, পুকুরটির চার পাশে বসার স্থান ও গাছ লাগালে আরও ভালো হবে।

পুকুরের পানি যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান। সিক্কাটুলী পঞ্চায়েত কমিটি ও মুসলিম যুব সংঘের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান (শিবলু) ও মো. আমিনুল হক (মতিন) যুগান্তরকে বলেন, পুকুরের পশ্চিম পাড়ে মানুষের যাতায়াতের জন্য গলি ছিল।

ওই গলির জায়গা পুকুরের ছিল। পুকুরের জায়গা দখল করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করা হয়। শতবর্ষেরও অধিক পুরনো পুকুরটি কতিপয় ব্যক্তি তাদের নিজের দাবি করে দখল ও ভরাটের পাঁয়তারা করছে। ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×