জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ঝুঁকিতে কর্মচারীদের বসবাস

যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বাণী ভবন

  আল ফাতাহ মামুন ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাণী ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে তারা বসবাস করছেন। ১নং ঈশ্বরচন্দ্র দাস লেনের ৩৫ ও ৩৬ প্যারিদাস রোডের মাথায় অবস্থিত এ ভবনটির ফটকে ‘কর্মচারী আবাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা’ লেখা রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আবাস বললে অনেকে চিনে না। বাণী ভবন বললে সবাই চিনে। প্রায় অর্ধশত কর্মচারী গাদাগাদি করে এখানে বসবাস করছেন। সপরিবারেও থাকছেন কেউ কেউ।

জানা যায়, ‘বাণী ভবন’ আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হল হিসেবে ব্যবহার হতো। এখন তা কর্মচারী আবাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে এ ভবনের মালিকানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণেই ছাত্ররা হল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছেন এখানে বসবারত কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন সুবিধাশূন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আবাসন সুবিধা নেই। তাই কেউ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে কোথাও থাকলে তা আইনসঙ্গত নয়। এর দায় কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

তাহলে বাণী ভবন কিভাবে কর্মচারী ভবন হয়ে গেল? এর চেয়েও বড় প্রশ্ন বাণী ভবন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঘোষিত একটি পরিত্যক্ত ভবন। জরাজীর্ণ এ ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বাণী ভবনে বসবাসরত কর্মচারীরা বলেন, এখানে আগে ছাত্ররা থাকত। এখন আমরা থাকছি। জবির কর্মচারী শেখ রানা যুগান্তরকে বলেন, অনেক বছর আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন ছাত্ররা চলে যায়। আমরা এসে উঠি।

ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পরিত্যক্ত ভবনে থাকার কারণ কি জানতে চাইলে আরেক কর্মচারী আল আমিন বলেন, আমরা খুব অল্প বেতনে কাজ করি। আলাদা বাসা ভাড়া দিতে গেলে সংসার চলবে না। তাই গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকছি। এখানে আমাদের কষ্টের কোনো সীমা নেই। রিয়াজুল ইসলাম নামে আরেকজন কর্মচারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। নোংরা পরিবেশ। তারপরও কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। সত্যি বলতে এটা কোনো জীবন না। কর্তৃপক্ষকে আবাসন সমস্যার কথা বলা হয়েছে। তারা আবাসন সমস্যার সমাধান করবে করবে বললেও এক বছর চলে গেছে। কিন্তু আবাসন নিয়ে কোনো আশার আলো দেখছি না। রংপুর থেকে বেড়াতে এসেছেন ইসহাক শেখের স্ত্রী। ফুটেফুটে শিশু কোলে দাঁড়িয়েছিলেন বাণী ভবনের নিচতলায়। তার স্বামী ইসহাক শেখ থাকেন এখানে। তিনি বলেন, প্রায়ই ওকে বলি এই ভবন ছেড়ে দাও। কিন্তু আমার কথা সে কানে নেয় না। বিনা পয়সায় থাকতে পারলে পয়সা দিয়ে কে থাকে বলেন! নিচতলা থেকে দোতলায় যাওয়া সিঁড়িপথ আবর্জনায় পূর্ণ। দেখে মনে হবে পরিত্যক্ত ঘর। যেন মানুষের পদচারণা নেই অনেক বছর। অবাক হলেও সত্যি! এমন পথ ডিঙিয়েই প্রতিদিন জীবিকার পথে ছুটেন ও ঘরে ফেরেন জগন্নাথের কর্মচারীরা। ভাঙা সিঁড়ি। ঘুটঘুটে অন্ধকার। দোতলায় একন পাশের মেঝে ভাঙা দিয়ে দেখা যাচ্ছে নিচ তলা।

জটিলতা আছে বাণী ভবনের মালিকানা নিয়েও। কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি বাণী ভবনের মালিক বিশ্ববিদ্যালয়। জবির আবাসিক সমস্যা নিয়ে করা প্রতিবেদনেও এই তথ্য দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক দৈনিক। আবার ব্যক্তিমালিকানার কথাও জনশ্রুতি আছে।

তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন ব্যবস্থা নেই। কর্মচারীদের জন্যও কোনো আবাসন ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেই। বাণী ভবন একটি পরিত্যক্ত ভবন। ওখানে কেউ থাকে না। হয়তো এ সুযোগে কেউ কেউ গিয়ে আবাস গড়েছে। এর জন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এখানে বলার বা করার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, কর্মচারীদের এখনই কোনো আবাসন সুবিধার পরিকল্পনা নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসের বিষয়ে জানে না রাজউক। রাজউকের উন্নয়ন কর্মকর্তা মেজর সামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাণী ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে লোকজনের বসবাসের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি ক্ষতিয়ে দেখব ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×