রেললাইন ঘেঁষে মাছবাজার

খিলগাঁওয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা * প্রভাবশালীদের কারণে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না

  একেএম সীমান্ত ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাছবাজার

খিলগাঁও রেলগেটে একেবারে লাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাছের অবৈধ বাজার। মাত্র ১০০ গজ দূরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্ধারিত মাছবাজার থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে পরিচালিত হচ্ছে অবৈধ এ মাছের বাজার।

এতে শুধু পথচারীরাই নয়, স্থানীয় মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে মধ্যরাত অবধি চলে এ মাছের বাজার। রাতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিমত, বিদ্যুতের সংযোগ না থাকলে রেললাইনের ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ বাজার বসা কখনই সম্ভব হতো না।

জানা যায়, দুপুর ৩টায় দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান বসে রেললাইনের পশ্চিম পাশ ঘেঁষা বাগিচা যাওয়ার রাস্তার মুখের এ বাজারে। অনেকে এ বাজার নিয়ে প্রতিবাদ করলেও দোকানদারদের হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে বাজারের বৈধতা নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। এ বাজারের কারণে অফিস ছুটির সময় বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুঃসহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভের সঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নামধারী কিছু লোকের পকেট ভরতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত চলছে এ অবৈধ মাছের বাজার। অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় এ বাজারের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিছু বললে তেড়ে মারতে আসে মাছের দোকানদাররা। তাই মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া আমাদের আর কি বা করার আছে? জানা যায়, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা উঠানো হয়। এ হিসাবে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার টাকা উঠে। মাসে প্রায় ৯ লাখ টাকা চাঁদা উঠানো হয়।

রেললাইনের পশ্চিম পাশে বসবাসরত একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অবৈধ মাছবাজারটির জন্য প্রায়ই রেললাইনে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত মাসে এ বাজারের ভিড়ের কারণে রেললাইন পার হতে না পেরে এক তরুণী পা হারায়। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এলাকাবাসীর দাবি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। কেননা বিদ্যুৎ না পেলে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত অবধি এ মাছবাজার চালু রাখা সম্ভব হবে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনও এ বাজার বন্ধ করতে পারছে না। যখনই তারা উচ্ছেদ করতে যায় তখনই রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ওপর মহল থেকে তদবির করে উচ্ছেদকারী কর্তৃপক্ষকে থামিয়ে দেয়।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, খিলগাঁও রেলগেটের পশ্চিম দিকের অবৈধ মাছের বাজারটি আরএনবির কর্ম আওতায় পড়ে না। তারপরও আমরা রেলের নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকবার উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান পরিচালনা করলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কারণে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছি। কমলাপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, রেললাইনের দুর্ঘটনা ঘটলে তা রেলওয়ে থানাকেই দেখতে হয়। কিন্তু অবৈধ মাছবাজার উচ্ছেদ না করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমি কয়েকবার এ বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাহায্যে তারা আবার দোকান নিয়ে বসে পড়ে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ এ বাজার চালাতে একটা বড় ভূমিকা রাখে। বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এ বাজারটি বন্ধ করা সম্ভব।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) রাজারবাগ এনওসিএসের (নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, আমরা যে কোনো সংযোগ দেই বৈধতা যাচাই করেই। পরবর্তীতে ওই সব বৈধ গ্রাহকরাই অবৈধভাবে এ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

খিলগাঁও রেললাইনের এ অবৈধ মাছবাজারে যে আলো জ্বলে তা পার্শ্ববর্তী এক দোকানদারের মিটারের সংযোগ থেকে। যদিও ডিপিডিসি এ বাজারে ব্যবহৃত আলোকসজ্জার বিদ্যুৎ বিল পেয়ে থাকে। তথাপি অবৈধ ব্যবহারের ফলে বিষয়টি অবশ্যই অনৈতিক। আমি ইতিপূর্বে কয়েকবার এ বাজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। তারপরও অবৈধ পন্থায় আবারও সংযোগ নেয়। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই আমি আবারও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×