নবসম্পৃক্ত ৩৬টি ওয়ার্ড

শপথ নিলেও শুরু হয়নি সেবা প্রদান

নেই কাউন্সিলর কার্যালয় ও লোকবল * বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শপথ নিলেও শুরু হয়নি সেবা প্রদান
ফাইল ছবি

সেবাবঞ্চিত হয়ে পড়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবসম্পৃক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, ৭ মার্চ নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের পর থেকেই তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের অধীন সাবেক ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা বন্ধ।

শুরু হয়নি ওই ইউনিয়নভুক্ত নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের সেবা কার্যক্রম। নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের এখনও কার্যালয়সহ লোকবল না দেয়ায় তারা ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এছাড়া সার্বিক সেবা প্রদানে ওইসব এলাকায় এখনও গড়ে ওঠেনি সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত কোনো জোনাল অফিস।

এতে ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম। ফলে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, নগরবাসীর সেবার মানোন্নয়ের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। সৃষ্টি হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ১৬টি ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে ভাগ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত করা হয়। তবে এলাকার সার্বিক সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকে সাবেক ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ওপরেই।

তারা দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাসের বেশি সময় ইউপি সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন। দক্ষিণে পড়া ৮টি ইউনিয়ন হচ্ছে- শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ।

আর উত্তরের ৮টি ইউনিয়ন হচ্ছে- বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি। শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলর নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ওই নতুন ওয়ার্ডগুলোতে।

আর প্রথমবারের মতো নাগরিকরা ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছেন উত্তরের মেয়র ও উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ৫ মার্চ গ্যাজেট প্রকাশের পর ৭ মার্চ শপথ গ্রহণ করেছেন ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।

সাবেক ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের পর থেকে ইউপি সেবা স্থগিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউপি কার্যক্রম বিলুপ্তি ঘোষণা না করা হলেও ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে চিঠির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে কবে নাগাদ ইউপি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তি ঘোষণা করে কাউন্সিলরদের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু নিয়মানুযায়ী মূলত কাউন্সিলর নির্বাচনের পরে ইউপি সেবা কার্যক্রম বিলুপ্তি ঘোষণা করে তাদের থেকে ওই কার্যক্রম বুঝে নেবে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিস।

পরে নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই দুই সিটি মেয়রের কাছে ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে।

পরবর্তীতে দুই মেয়র ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা কার্যক্রম নবনির্বাচিত ৩৬ জন কাউন্সিলরের কাছে হস্তান্তর করবেন। কিন্তু কবে নাগাদ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদ অন্তর্ভুক্ত গ্রামীণ আদালতে সালিশ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় নানা সমস্যায় রয়েছেন অধিবাসীরা।

এছাড়া দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ অন্তর্ভুক্ত ইউপি সচিবসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, তারা কি এখন সরকারিভাবে আগের মতো কোনো কার্যক্রম করতে পারবেন, নাকি অন্য পেশায় যাবেন? সবাই হতাশায় রয়েছেন।

তারা কি চাকরিচ্যুত হবেন? নাকি ওয়ার্ডভিত্তিক সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোয় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কর্মরত থাকতে পারবেন?

জানা গেছে, একটি ইউনিয়ন পরিষদে সচিব, অফিস সহকারী, হিসাবরক্ষক, উদ্যোক্তা, কম্পিউটার অপারেটর, দফাদার ও গ্রামপুলিশসহ অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন কর্মরত থাকেন। এভাবে ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদেই কর্মরতরা বর্তমানে হতাশায় রয়েছেন।

প্রকাশ থাকে যে, নির্বাচনের পর গ্যাজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের পর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের আর কোনো দায়িত্ব বা ক্ষমতা থাকবে না। অথচ কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে না। এতে করে সাবেক চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর উভয়পক্ষই এলাকাবাসীর সেবা দিতে পারছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে এখনও কাউন্সিলর অফিস উদ্বোধনের খবর মেলেনি। এছাড়া এ অবধি কাউন্সিলরদের কোনো কার্যক্রমও শুরু হয়নি। এতে এলাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছেই।

এসব বিষয় নিয়ে আলাপ হয় নবনির্বাচিত ৭০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এলাকাবাসী ইতিমধ্যে আমার কাছে আসছেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। তবে কার্যক্রম বুঝে না পাওয়ায় তাদের কোনো ধরনের সমাধান দিতে পারছি না। এছাড়া কাউন্সিলররা এখনও কার্যালয় ও ওয়ার্ড সচিব পাননি। তবে শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের অধীন সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে চিঠির মাধ্যমে আমাদের কাজ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বলে সব ধরনের সেবা প্রদান বন্ধ রয়েছে। তবে ইউপি কার্যক্রম বিলুপ্তি ঘোষণার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আমাদের কাছ থেকে দায়িত্বও বুঝে নেননি কেউ। বর্তমানে তাই নাগরিক ভোগান্তি অনেক বাড়ছে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার শাহানা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন শেষে শপথ গ্রহণের পর ইউপি সেবা বন্ধ হলেও সিটি কর্পোরেশনের বেসিক সেবা চালু আছে। সেক্ষেত্রে অবশ্য কাছাকাছি কোনো জোনাল অফিসে গেলে অবশ্যই সেবা মিলবে। তবে বিষয়টি সর্বস্তরের মানুষ হয়তো জানেন না। সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে সেন্ট্রাল বডি, আর ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে লোকাল বডি। তবে দুটোই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। জানা মতে, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাউন্সিলরদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের একান্ত সচিব এসএম আনছারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শপথের মাধ্যমেই নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মানুষ তাদের কাছে যাওয়া শুরু করলেই সেবা পেতে পারে। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে দফতরভিত্তিক কার্যক্রমও চলছে। তবে টোটাল সেটআপে কিছুটা সময় লাগবে। আর ওয়ার্ডভিত্তিক শতভাগ সেবা খুব দ্রুত পর্যায়ক্রমে শুরু হয়ে যাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : উত্তর সিটি উপনির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×