কালশীর অবৈধ স্ট্যান্ড যেন গলার কাঁটা

  মিরপুর প্রতিনিধি ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালশীর অবৈধ স্ট্যান্ড যেন গলার কাঁটা
কালশী স্ট্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের কালশীর অবৈধ স্ট্যান্ডটি এক সময় মিরপুর ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের মূল সড়কেই ছিল। যানজট লেগে থাকত বিধায় স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এটি ২০১৬ সালে কালশী-লালমাটিয়া সড়কে স্থানান্তর করা হয়।

সে সময় এলাকাবাসী এ নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল। অবশ্য কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছিল স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে এবং তা অচিরেই অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে। পরে কেউ কথা রাখেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের আকার ও আয়তন বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। কিছুতেই সরছে না কালশীর অবৈধ স্ট্যান্ড। এটি যেন এলাকাবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। অবৈধ এ স্ট্যান্ডের কারণে কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে ইউসিবি চত্বর দিয়ে আগত উত্তরা, বাড্ডা, গুলশানগামী যানবাহন কালশী মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে থাকে।

ইদানীং কালশী সড়কে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় ১২০ ফুটের সড়কটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে অবৈধ স্ট্যান্ড ও সংকুচিত সড়কে যেন দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, লালমাটিয়া টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে উত্তর দিকে কালশী সড়ক পর্যন্ত সারি সারি পিকআপ, কভার ভ্যান, লেগুনা, ট্রাক থামিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে পাঁচ শতাধিক যানবাহন রয়েছে। প্রতিনিয়ত স্ট্যান্ডে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে স্ট্যান্ড পার হয়ে কালশী মূল সড়কে যানবাহন পার্কিং করে রাখা হয়।

এতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ১২০ ফিট সড়কটির বাম পাশের লেন পুরোপুরি স্ট্যান্ডের দখলে রয়েছে এবং এর বিস্তৃতি হয়েছে কালশী মোড় পর্যন্ত। অন্যদিকে ডান পাশের লেনের সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কটির মাঝামাঝি অংশে ৪০-৫০ গজ জায়গাজুড়ে এত বড় গর্ত রয়েছে যে, সিএনজি বা রিকশাা পড়ে গেলে টেনে তুলতে হয়। এদিকে আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির দারোয়ান কালাম বলেন, ট্রাক সমিতির গ্যারেজের জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, ট্রাক আপাতত এখানেই রাখেন।

ট্রাক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমরা গ্যারেজের জন্য জায়গা খুঁজছি, জায়গা পেলে রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি রাখব না। আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির দেখাদেখি পুরো রাস্তায় রিকশা গ্যারেজ, দোকানপাট ও নির্মাণসামগ্রীর দোকান গড়ে উঠেছে সেখানে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তার ভাই লাভলু ট্রাক সমিতির সঙ্গে জড়িত। লাভলু ও আবুল হোসেন এ স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কাউন্সিলরের অনুমতিতেই এই স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, আমি ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে জড়িত নই। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এই রাস্তাটি মুক্ত রাখার জন্য। স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

পল্লবী জোনের এসি (ট্রাফিক) সাইকা ইয়াসমিন পাশা বলেন, কালশীর স্ট্যান্ডটি আগে ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড ছিল। সেখানে যানজট লেগে থাকত বিধায় ২০১৬ সালে এটি এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি স্ট্যান্ডটি অন্যত্র সরানোর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×