হকারদের উৎপাতে অতিষ্ঠ গুলিস্তান পার্কের দর্শনার্থীরা

মাদক কারবারিদের নিরাপদ অবস্থান * চারদিকে নোংরা পরিবেশ

  আফরোজা সুলতানা ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার গুলিস্তান পার্ক। পার্কটিতে আগে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এখন কমে গেছে। যৌনকর্মীদের অবাধ বিচরণ, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ অবস্থান, হকারদের উৎপাত মানুষের অনুপস্থিতির মূল কারণ। এ ছাড়া চারদিকে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তো রয়েছেই।

দীর্ঘদিন পর পার্কে ঘুরতে আসা জালাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমি আগে গুলিস্তান পার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসতাম। এখন আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পারি না। কারণ হিজড়া, যৌনকর্মী আর উটকো হকারদের উৎপাতে খুবই বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ পার্কে হকারদের বসার জন্য আলাদা করে হকার্স মার্কেট করে দেয়ার পরেও তারা বিরক্ত করে। এদের যন্ত্রণায় শান্তিতে হাঁটাচলা, ব্যায়াম কিছুই করা যায় না। শিশুরা স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, ভাই, আমরা পেটের দায়ে গুলিস্তান পার্কে বসি। এ পার্কটি পরিষ্কার রাখার শর্তে আমাদের হকারের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। পরিষ্কার না রাখলে আমাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে সরকার।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে উন্নয়নকাজ চলছে। তার পরও পার্কের হাঁটার জায়গাগুলো ও নাট্যমঞ্চের চার পাশে বিড়ি ও সিগারেটের আধপোড়া ফিল্টার, চিপস্ ও আইসক্রিমের খালি প্যাকেট, ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। উন্নয়নকাজ চলাকালীন পার্কে ভবঘুরের আগমন বেড়েছে। পুকুড় পাড়ের দড়িতে টানানো রয়েছে ছেলেদের গামছা, লুঙ্গি ও মেয়েদের পোশাক। অনেক অবৈধ যানবাহন পার্কের ভেতর পার্কিং করে রাখা হয়। কোথাও কোনো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই কোনো পাহারাদার ও ক্লিনার। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবহেলায় পড়ে আছে পার্কটি।

স্থপতি ও নগর বিশেষজ্ঞ মেবাশ্বের হোসেন বলেন, যখন কোনো পার্ক বা উদ্যান দেয়াল ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়, তখন এর অভ্যন্তরে নানা রকম অপরাধ সংঘটিত হয়। যখন উন্মুক্ত করা হয় তখন তা সবার নজরদারিতে থাকে।

পার্কটির পুকুর সংস্কার ছাড়াও, হাঁটার পথ, বসার জায়গা, আধুনিক শৌচাগার ও পুকুড়ের চারপাশে ঘাটলা বাঁধানোর কাজ চলছে। পূর্বের হাঁটার পথগুলো সব ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ইট বালু ফেলা হচ্ছে। ব্যায়ামাগার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ডিএসসিসির উদ্যোগে এখানে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করছে মেসার্স আলী ও টি হোসেন এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। ৩৭.৯ বিঘা আয়তনের এ পার্কটি বর্তমানে ২৯ বিঘায় এসে দাঁড়িয়েছে। জনগণ ও পথচারীদের সুবিধার্থে ১৯৯৫-৯৬ সালে কিছু গাছ কেটে দুটি রাস্তা তৈরি করা হয়। প্রায় পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় পার্কের অভ্যন্তরে মূল আকর্ষণ মহানগর নাট্যমঞ্চটি নির্মিত হয়।

নগরীতে খেলার মাঠ ও পার্কের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের। পুরান ঢাকায় এ স্বল্পতা আরও ব্যাপক।

মেসার্স আলী ও টি হোসেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খায়ের উদ্দিন জুয়েল মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমরা শুধু কনস্ট্রাকশনের কাজ করছি। পার্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গেলে আমাদের এই উন্নয়ন বাজেটে সংকুলান হবে না। তাছাড়া আমাদের জনবলেরও সংকট রয়েছে। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যেই এ উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে পার্কের বর্তমান চিত্র পাল্টে যাবে।

ডিএসসিসি ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুজতবা জামান পপি যুগান্তরকে বলেন, ডিএসসিসির উদ্যোগে বর্তমানে পার্কটিতে আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজ চলছে। নির্মাণকাজ চলছে বিধায় ভবঘুরে আর হকারদের কারণে জনসাধারণের কিছুটা ভোগান্তি হলেও খুব দ্রুতই তারা (জনগণ) এর সুফল ভোগ করবে। সাধারণ মানুষের বিনোদন ও সময় কাটানোর ভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে আমি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি তদারকি করব।

হকারদের উৎপাত, যৌনকর্মীদের বিচরণ আর মাদকসেবীদের বিষয়ে পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদুল হক যুগান্তরকে বলেন, মাদকের বিষয়ে আমি সবসময় জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করি। গুলিস্তান পার্কটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখানে সারা দেশের মানুষ এসে জড়ো হয়। পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি ও ছিঁচকে চোরেরা তাদের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। পার্কের উন্নয়নকাজ চলার কারণে এখানে মজুর শ্রেণীর লোকদের উপস্থিতি সবসময় থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর লোক অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অপচেষ্টা চালায়। তবে আমরা বিষয়টি আরও শক্তভাবে তদারকি করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×