রেললাইনের পাশে জলাবদ্ধতা

জুরাইনে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

  আল ফাতাহ মামুন ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জুরাইন রেললাইনের উত্তর পাশের রাস্তা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে রেললাইন। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ এলাকার আলমবাগ-বউবাজার, পচাগলি ও গ্যাসপাইপের সামনের রাস্তায়ও জলাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই আবর্জনা ও জলাবদ্ধতা ডিঙিয়ে পথ চলতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাকে। বৃষ্টি হলে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারীরা। বৃষ্টি ছাড়াও জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে জুরাইন-পোস্তগোলাবাসীর জন্য।

সরেজমিন দেখা যায়, জুরাইন রেললাইনের উত্তরাংশের বেশখানিক পথ জলাবদ্ধতা ও আবর্জনায় ছেয়ে গেছে। ভেতরের দিকে আবর্জনায় স্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পানিতে ভেসে ড্রেনের গিয়ে আটকে পড়েছে। এতে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তবে দুর্ভোগ সত্ত্বেও জীবন-জীবিকার তাগিদে পানি ডিঙিয়েই গন্তব্যে ছুটে চলতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মা সেতুর কাজের জন্য আশপাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু ওইসব ভাঙা স্থাপনার আবর্জনা সরিয়ে ফেলার পরও বড় একটা অংশ এখানে রয়ে যায়। ফলে ওই আবর্জনা ড্রেনে আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথে যাতায়াত করে। জলাবদ্ধতা আর আবর্জনার কারণে এখন মানুষ চলা দায় হয়ে পড়েছে। তারপরও ময়লা ঠেলেই চলতে হয় আমাদের।

পথচারী আয়েশা আরিশা বলেন, এ পথে নিত্য যাতায়াত আমাদের। বড় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও আবর্জনা পরিষ্কার করে রাস্তাটি চলার উপযোগী করে দেয়া খুবই জরুরি। আশপাশে কয়েকটি রাস্তায় সংস্কারের কাজ চলার কারণে ওই রাস্তাগুলোতেও যাতায়াত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বৃষ্টি হলে কাদাপানি ডিঙিয়েও চলতে হয়। এ ধরনের ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্তি চাই। আরেক পথচারী লামিসা আক্তার বলেন, আবর্জনার স্তূপের কারণে ঠিকভাবে রিকশাও চলতে পারে না। হাঁটলে জলাবদ্ধতায় কাপড় নোংরা হয়ে যায়। কী যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি বলে বোঝাতে পারব না।

একে তো জলাবদ্ধতা তার ওপর আবর্জনার স্তূপ। এর পাশেই খাবারের দোকান। এমন নোংরা পরিবেশে বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল ও টি-স্টল দেখা যায়। দেখা যায় খাবার পরিবেশন ও গ্রহণের দৃশ্য। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনেও নোংরা পরিবেশে খাবার গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই আলামিন সরকার নামে এক ব্যক্তি বলেন, এ ধরনের নোংরা পরিবেশে খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও খাচ্ছি। চলার পথে সবসময় তো স্বাস্থ্যসম্মত ভালো খাবার বিপণি পাওয়া যায় না। তবে এ ধরনের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশ দূর করা জরুরি।

দীর্ঘদিনের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং আবর্জনার ব্যাপারে ডিএসসিসির ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নূর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আবর্জনা অপসারণ অভিযান শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই জুরাইনসহ আশপাশের আবর্জনা অপসারণ হবে। এতে করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

ডিএসসিসি অঞ্চল-৫ এর নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঠিক কোন অংশের জলাবদ্ধতার কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। নির্বাচনী কাজে আমি এখন ঢাকার বাইরে আছি। তবে আমাদের জলাবদ্ধতা নিরসন ও আবর্জনা অপসারণ অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×