নিজেকে এখন বাঙালি মনে হয়

  রিটস্কো তাকাহাসি ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৫৬ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন, জাপানি নারী রিটস্কো তাকাহাসি (Ritsuko Takahashi) । দীর্ঘদিন এদেশে বসবাস করার কারণে নিজেকে বাঙালি বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে অনেক বছর ধরে থাকলেও এখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাননি রিটস্কো। এসব বিষয় নিয়ে যুগান্তরের পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। সাক্ষাৎকার নেন প্রদায়ক খাদিজা আক্তার মুন্নী ...

যুগান্তর : কেমন আছেন আমাদের ঢাকা মহানগরে?

রিটস্কো : ঢাকাতে আমি ৫৬ বছর ধরে আছি। নিজেকে বিদেশি মনে করি না, এ দেশের মানুষের মতোই আমি চলাফেরা করি। নিজের দেশে কেউই খারাপ থাকে না, তাই অবশ্যই ভালো আছি।

যুগান্তর : আপনার দেশের রাজধানী টোকিওর সঙ্গে ঢাকার কোনো মিল খুঁজে পান?

রিটস্কো : টোকিওর সঙ্গে ঢাকার অনেক অমিল আছে। ওখানে আইনকানুন অনেক কঠিন। অপরাধ করে কেউ পার পায় না, ধরা পড়বেই। তবে বাংলাদেশে সেরকম অবস্থা নেই। তবে, বাঙালিরা খুব সহজ-সরল ও ভালো মানুষ। তাই আমি এ দেশে এত বছর ধরে থাকতে পারছি।

যুগান্তর : বসবাসে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন কি?

রিটস্কো : না, কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। তাছাড়া জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক ভালো বলে আমি মনে করি।

যুগান্তর : ঢাকা ও টোকিওর আবহাওয়াগত পার্থক্য আছে কি?

রিটস্কো : আবহাওয়ার তো অনেক পার্থক্য আছে। তবে আমার মানিয়ে নিতে কোনো অসুবিধা হয়নি।

যুগান্তর : আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে পুলিশ আছেন। তাদের নিয়ে কিছু বলুন।

রিটস্কো : এদেশে অপরাধীর শাস্তি হয় না। বেশিরভাগ অপরাধীই ধরা পড়ে না। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি বলেই আমি মনে করি।

যুগান্তর : চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় কি?

রিটস্কো : না, চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় না।

যুগান্তর : যানজট নিরসনে আপনার মতামত বলুন।

রিটস্কো : বাংলাদেশে আসলে কোনো কাজই গুরুত্ব দিয়ে করা হয় না। যানজট নিয়ে কয়েকদিন দেশের মানুষ সবাই অনেক হৈ, চৈ করেছিলেন। এখন যা তাই রয়ে গেছে। এদেশে কোনো কিছুই বেশিদিন থাকে না। নিরসন কিভাবে হবে সেটা আমি বলতে পারব না। তবে এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্ব দেয়া উচিত।

যুগান্তর : জাপানে চাকরি না করে বাংলাদেশ কেন বেছে নিলেন?

রিটস্কো : ৫৬ বছর আগে বিয়ে করে এ দেশে চলে এসেছি। এদেশের নাগরিককে বিয়ে করে বাংলাদেশকে থাকার জন্য বেছে নিয়েছি।

যুগান্তর : কোথায় চাকরি করেন?

রিটস্কো : আমি জাপান দূতাবাসে কাজ করতাম। বর্তমানে অবসরে আছি।

যুগান্তর : জাপানে কি আর ফিরে যেতে চান?

রিটস্কো : ৫৬ বছর এদেশে কাটিয়েছি। আর যতদিন আছি এদেশেই থাকতে চাই।

যুগান্তর : আপনার মতে ঢাকার কোন সেবা ভালো নয়?

রিটস্কো : সত্যি কথা বলতে কি বাংলাদেশের মানুষই ভালো। কিন্তু এদেশের কোনো সেবাই ভালো নয়।

যুগান্তর : জাপানের চিকিৎসা সেবা ও ঢাকার চিকিৎসা সেবা নিয়ে কিছু বলুন।

রিটস্কো : জাপানে চিকিৎসা অত্যন্ত ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে আমার মনে হয় শুধু টাকার জন্য চিকিৎসা করা হয়। এদেশের চিকিৎসকরা শুধু টাকাকেই গুরুত্ব দেয়।

যুগান্তর : ঢাকায় আপনি পরিবার নিয়ে থাকেন, জাপান যান কি?

রিটস্কো : আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি এখানে একাই থাকি। আমার ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে থাকে। আগে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে মাঝে মধ্যে জাপান যেতাম। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আর যাওয়া হয় না।

যুগান্তর : খাবার ও খাদ্যসামগ্রী পেতে কোনো অসুবিধা হয়?

রিটস্কো : না।

যুগান্তর : অনেক ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রিটস্কো : যুগান্তরকেও ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×