কারপার্কিং দীর্ঘদিন বন্ধ

বায়তুল মোকাররমে ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব

  বিল্লাল হোসেন ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের একমাত্র আধুনিক কারপার্কিং এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ইজারা নিয়ে দুই গ্রুপের দলীয় প্রভাব ও এর ভেতরে অবৈধ মালামাল রাখায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। যা থেকে বার্ষিক আয় হতো প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। এতে মসজিদ মার্কেটে আসা ক্রেতাদের গাড়ি পার্কিং করতে হয় স্বর্ণ মার্কেটের সামনের লিংক রোডে। এ রাস্তার এক পাশে হকারদের দোকান, অন্য পাশে গাড়ি পার্কিংয়ে প্রায় সময় যানজট সৃষ্টি হয়। যদিও রাস্তার মধ্যে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-ডিএসসিসি।

২০১৩ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করা হয় প্রায় চারশ’ গাড়ি রাখার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক কারপার্কিং। প্রথম দুই বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালনা করলেও পরে তেতাল্লিশ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয় ইমরান ট্রেডার্সের কাছে। ইজারা নিয়ে ইমরান ট্রেডার্স ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় পার্কিংয়ের ভেতরে ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখার জন্য তৈরি করে ত্রিশটি গোডাউন (গুদাম) ঘর। যা এক বছরের চুক্তিতে পাঁচ টাকা অগ্রিম নিয়ে ভাড়া দেয়া হয়। ফুটপাতের হকারদের মালামালের সঙ্গে রাখা হতো মাদকদ্রব্য। যা পুলিশের অভিযানে আটক করা হয়।

এক বছর মেয়াদ শেষ হলে ইজারা নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, সরকারদলীয় একাধিক ব্যক্তি ইজারার জন্য আবেদন করায় বাইরের কাউকে দেয়া হয়নি। তাদের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইজারা বন্ধ করে দেয়।

ইসলামিক ফাইন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক মহিউদ্দীন মজুমদার বলেন, ‘এটি ইমরান ট্রেডার্সকে ইজারা দেয়ার পর তারা সেখানে গোডাউন বানিয়েছে। সেখান থেকে পল্টন থানার ডিবি পুলিশ ইয়াবা ও ফেনসিডিলের চালান আটক করেছে। সন্ত্রাস ও মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছিল। এটা জাতীয় মসজিদের ভেতর হতে পারে না। আমি দায়িত্বে আসার পর এগুলো উচ্ছেদ করতে গিয়ে অনেক প্রেসার ওভারকাম করতে হয়েছে। উচ্চমহলের চাপের কারণে ইজারাদারকে অনেক সময়ও দিতে হয়েছে। তারপর আমি সব গোডাউন ভেঙে সিলগালা করে রেখেছি। নতুন করে ইজারা কেন দেয়া হচ্ছে না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা টেন্ডার ডেকে ছিলাম, কর্তৃপক্ষের কাছে খবর এসেছে যত টাকা হোক ইমরান ট্রেডার্স নেবে। দরপত্র জমা দেয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শন করে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। সে কারণে কর্তৃপক্ষ সেটা বাতিল করেছে। তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে এমন প্রভাব খাটিয়েছে। ইমরান ট্রেডার্সের মালিক জামাল শেখ বলেন, আমি এখানে কোনো গোডাউন বানাইনি। হকারদের কিছু মালামাল রাখছিলাম। যখন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে ছিল তখন অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা নেয়ার পর কিছুই হয়নি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেগুলো মিথ্যা। পার্কিংয়ের ভেতরে বৃষ্টির পানি ঢোকায় তেমন গাড়ি কেউ রাখে না। এজন্য এক বছরে আট লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখন যদি ইজারা দেয় আমি নেব না। চাইলে যেকোনো ব্যক্তি নিতে পারে। আধুনিক কারপার্কের মূল ফটকের রাস্তা বন্ধ করে হকাররা বসিয়েছে দোকান, জুয়েলার্স মার্কেটের সামনের অংশে রাস্তায় রাখা হচ্ছে গাড়ি, প্রায় সময় পুরো রাস্তা ব্লক হয়ে থাকে। গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা ছগির হোসেন বলেন, এখানে এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার কারণে সিটি কর্পোরেশন এ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে । এখানে গাড়ি রাখলে ১৫ টাকা দিতে হয়। যদিও পার্কিং করার পর গাড়িপ্রতি নেয়া হয় ৩০ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যানজট নিরসনে উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ের আলোকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিছু কিছু জায়গায় গাড়ি রাখার সুযোগ দেব। এখন তো অবৈধভাবে তারা গাড়ি রাখছে। এটাকে বৈধ ফরমেটে নিয়ে আসার জন্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তালিকা অনুযায়ী আমাদের যান্ত্রিক বিভাগ রোড মার্কিং করে দিয়েছে। এর মধ্যে বায়তুল মোকাররমের এ জায়গাও রয়েছে।

এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী জানান, এ পার্কিং চালু থাকাকালে ক্রেতারা নিশ্চিন্তায় গাড়ি রেখে কেনাকাটা করতেন। আমাদের গাড়িও রাখতে পাড়তাম, এখন গাড়ি রাখা নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়তে হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter