ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবহেলা আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (ইডব্লিউএমসিএইচ) আসা রোগীরা। নগরীর তুরাগে অবস্থিত এ হাসপাতাল আলিম ফাউন্ডেশনের সক্রিয় সহযোগিতায় ২০০০ সালে সাড়ে ছয় একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে রয়েছে ৬৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। জাপানের সহযোগিতায় আরও ৬৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণাধীন আছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই দেশের বাইরে থেকে পড়ালেখা করার জন্য এসেছেন। এ কলেজের লেখাপড়া ভালো হয় জেনেই তারা এখানে ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতালে রয়েছে নানা রকম সমস্যা। অবহেলা আর সঠিক পরিচর্যার অভাবে দিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ঢুকতেই যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ময়লা-আর্বজনা। একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে সব বিভাগ থাকা দরকার তার সবকিছুই আছে এখানে। হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে বিভিন্ন বয়সের রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন । আইসিইউতে মাত্র একজন রোগী ভর্তি আছেন। কথা হয় জরুরি বিভাগের ডা.মতিয়ার রহমান সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ (শুক্রবার) বন্ধের কারণে কেউ আসেনি। তবে জরুরি সেবা দেয়ার জন্য আমি আছি। আমি এখানে সপ্তাহে ২-৩ দিন আসি। আমি আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করছি, তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে সিনিয়রের পরামর্শে এখানে ভর্তি করি অথবা অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে রেফার করি। কথা হয় কয়েকজন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, এখানে আমরা চিকিৎসা নিতে আসি। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। ভাবতাম সরকারি হাসপাতালে মনে হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে না। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম ডা. নেই, পরিষ্কার করার কোনো লোককে ডাকলেও পাওয়া যায় না। বেসরকারি হাসপাতাল যে এত নোংরা হয় তা আগে জানা ছিল না। অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার বাবার হাঁপানির সমস্যা আছে। তাই এখানে ভর্তি করেছি, তবে আমি দুই বছর আগে যখন এখানে আমার বাবাকে ভর্তি করেছিলাম, তখন অনেক ভালো পরিবেশ ছিল। এখন এসে দেখি তার ব্যতিক্রম। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত পরিষ্কার না করায় কি বাজে গন্ধ লাগে। ভুক্তভোগী একজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় কথা হয়। তিনি জানান, আমি এখানে ৫ দিন ভর্তি ছিলাম। কিন্তু তারা না একবার চাদর বদল করল, না বালিশের কাভার। তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতাল এর চেয়েও মোটামুটি ভালো। হাসপাতালের এক নারী কর্মী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাচ্চাদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। যেখানে আমাদের বাচ্চাদের ফ্রি রাখার কথা, কিন্তু সেখানে তাদের বাচ্চা রাখার জন্য এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি, সেখানে কিভাবে আমাদের সন্তানদের লালন-পালন করব। তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টে চাকরি করলেও এর চেয়ে অনেক বেশি বেতন দেয়। বাধ্য হয়ে সন্তানের জন্য এখানে চাকরি করি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের প্রশাসন শাখার ম্যানেজার জাহিদ আলম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের নতুন ১১তলা ভবনের কাজ চলছে। তাই সাময়িক একটু অসুবিধা হচ্ছে। আমি আর তেমন কিছু বলতে পারব না। হাসপাতালের মালিক প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে সবকিছু জানতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter