শিল্পকলায় শিল্পের সম্ভারে মুজিবনগর দিবস

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পকলায় শিল্পের সম্ভারে মুজিবনগর দিবস
ফাইল ছবি

অতিথিরা সবাই একসঙ্গে সরিয়ে দিলেন কালো কাপড়টি। উন্মোচিত হল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পুরো ভাষণের লিখিত রূপসহ খোদাইকৃত গ্রানাইট পাথরের মাঝে উদ্ভাসিত বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান।

শিল্পকলা একাডেমির মাঠের এক কিনারে প্রায় একশ’ ফুট দীর্ঘ দেয়ালে ভাস্কর্যটি গড়েছেন ভাস্কর জাহানারা পারভীন। ‘শিল্পের আলোয় সাতই মার্চ’ শীর্ষক ম্যুরালটিতে উঠে এসেছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের অভ্যুদয়সংলগ্ন আন্দোলন-সংগ্রামের দৃশ্যকল্প। বুধবার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে এ ভাস্কর্যের উন্মোচন করা হয়।

তার আগে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কণ্ঠে পাঠ করলেন স্বরচিত কবিতা ‘স্বাধীনতা, শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’। কবিতা পাঠ থামতেই সবাই এগিয়ে যান বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে সেই নতুন ভাস্কর্য উন্মোচনে।

ভাস্কর্যটি প্রসঙ্গে এর নির্মাতা জাহানারা পারভীন বলেন, আমি আমার ভাস্কর্যের মাধ্যমে জাতির পিতার সেই আবেগ, সেই যুক্তি, সেই কঠিন নির্দেশনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি চার ফুট বাই আড়াই ফুট কালো গ্রানাইট পাথরে।

নিজেকে নিপীড়িত মানুষ ভেবে ভাষণের প্রতিটি শব্দকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা ও সহমর্মিতায়।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রতিফলনরূপে ব্যবহার করেছি ২৬টি পাথর। ব্যবহৃত হয়েছে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের ফটোগ্রাফ। আছে শামসুর রাহমানের অমর কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’। সেই কবিতার সঙ্গী হয়েছে হাজার বছরের বাঙালির গৌরবগাথা তুলে ধরা সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ‘আমার পরিচয়’।

ভাস্কর্য উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মূল আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। অনুভূতি প্রকাশ করেন ভাস্কর জাহানারা পারভীন।

আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ‘আমি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ গানের সুরে নাচ করে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা। ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ ও ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের’ শীর্ষক সম্মেলক সঙ্গীত পরিবেশন করে একাডেমির শিশু শিল্পীরা। শিশু শিল্পী সেঁজুতি গেয়ে শোনায় ‘আমি ধন্য হয়েছি আমি পূর্ণ হয়েছি’।

এরপর ‘দুঃখিনী বাংলা জননী বাংলা’ এবং ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ গানের সুরে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী শ্রেয়সী।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×