ডেমরায় বাড়ছে অপরাধ

নিরাপত্তাহীনতায় নারী ও শিশুরা * অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেমরায় বাড়ছে অপরাধ

ক্রমেই অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে নগরীর ডেমরা। বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যা। তাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে শিশুরা। নারীরাও বিপদমুক্ত নয়।

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে একের পর এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ডাকাতি, গুম ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ডেমরায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

সড়কে চালকদের অনিয়ম আর ট্রাফিক বিভাগসহ পরিবহন কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনায় সড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের আগ্রাসনে চুরি-ছিনতাইসহ সমাজে ক্রমেই বাড়ছে নানা অপরাধ।

বাসস্ট্যান্ড, হাট-বাজারসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দখলযজ্ঞ বৃদ্ধিসহ বাড়ছে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি। ডেমরায় ইতিমধ্যে হত্যা-মৃত্যুর ঘটনাসহ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।

গত কিছু দিনে কয়েক দফায় বিক্ষুব্ধদের বিক্ষোভসহ অবরোধে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী, ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-শিমরাইল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতকে কেন্দ্র করে সড়কসহ পার্কিং গ্যারেজে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের গাড়ি ভাংচুর করতে দেখা গেছে। শিশু অপহরণ, ধর্ষণ, গুম ও হত্যার ঘটনা কেন্দ্র করে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ- প্রশাসনের মিটিং, সমাধানে নানান প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপের পরও কিছুতেই যেন এসব নৈরাজ্য থামছে না। নৈরাজ্য থামছে না সড়ক ও যানবাহন সেক্টরেও।

একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আন্দোলনমুখী হচ্ছে মানুষ। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের খামখেয়ালি, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনিটরিংয়ের অভাবসহ আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকেই দায়ী করছে অভিজ্ঞমহল।

জানা যায়, ডেমরায় ৭ এপ্রিল ডগাইর নতুনপাড়া এলাকায় মনির হোসেন নামে নূর-ই-মদিনা মাদ্রাসার এক ছাত্রকে অপহরণের সঙ্গে সঙ্গেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ খুন করেছেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী। সঙ্গে ছিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী মো. আকরাম ও আহাম্মদ শফী ওরফে তোহা। অভিভাবকরা ১ লাখ টাকা দিলেও রেহাই পায়নি ছেলেটি।

এ ঘটনায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া খুনের পরদিন স্থানীয়রা খুনিদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে ডেমরার বাঁশেরপুল ও স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করেন। এর আগে ৫ এপ্রিল মোস্তমাঝি এলাকায় ডেমরা-রামপুরা সড়কে বাসচাপায় ইবনে তাহছিম ইরাম নামে স্থানীয় এক কলেজছাত্রের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

এ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে শুধু দুই বাসের পাল্লা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তবে এ দুটি ঘটনায় চালক ও খুনিরা গ্রেফতার হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ- বিচার হলে কি আর জীবন ফিরে আসবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে ডেমরায় গত ১ বছরে বেশ কয়েকটি নারী ধর্ষণ, কিশোরী ও শিশু ধর্ষণ এবং শিক্ষার্থী ও কিশোরী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে লাখ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি। এছাড়া ডেমরা থেকে র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের অভিযানের মাধ্যমে ডাকাত, ছিনতাইকারী, বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী ও অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১ বছরে কয়েকটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে ডেমরায়। তাছাড়া এখানে গুলি করে বিকাশ কর্মীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সন্ত্রাসীর গুলিতে বিকাশ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ডেমরায় ঘটেছে। আর চুরি-ডাকাতি ছিনতাই তো আছেই।

আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে ডেমরায় কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

মাদ্রাসাছাত্র শিশু মনির হোসেন হত্যার বিষয়ে নিরলস পরিশ্রম ও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে সামনে আর না ঘটে তার জন্য কিছু সিডিউল করেছি।

পুলিশ জনগণের সঙ্গে আরও বেশি কানেক্ট হবে। অপরাধপ্রবণ এলাকাসহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে পেট্রোল ডিউটি জোরদার হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই পুলিশের মনিটরিং থাকবে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, সড়কে চালকদের অনিয়মে ১৩ জানুয়ারি ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন সংলগ্ন ডেমরা-আমুলিয়া সড়কে বাসের ধাক্কায় পেয়ারী বেগম নামে এক বৃদ্ধার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ডেমরার গলাকাটা এলাকায় ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মো. কাজল নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন বছরে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে দুর্ঘটনায় অর্ধ শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে রামপুরা ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহমিদা আফরীন যুগান্তরকে বলেন, মানুষ ও যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অদক্ষ চালকের সংখ্যা। এতে প্রতিনিয়ত সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা; ঘটছে প্রাণহানি।

অঙ্গহানি হয়ে অনেকে বেঁচে থেকেও মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করছেন। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রামপুরা ট্রাফিক জোন ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; যা অব্যাহত থাকবে।

এর মধ্যে জরুরিভিত্তিতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চালকদের লাইসেন্সসহ সব ধরনের চেকিং চলছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েও কাজ হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×